রেলভাড়া নিয়ে আন্দোলনকে সামনে রেখে মোদী-সরকারের বিরুদ্ধে পাড়ায় পাড়ায় জনমত তৈরি করতে চাইছে রাজ্যের শাসক দল। বর্ধিত রেলভাড়া প্রত্যাহারের দাবিতে শ্যামবাজার পাঁচ মাথা মোড়ে বৃহস্পতিবার তৃণমূল যুব কংগ্রেসের গণ-অবস্থান থেকে দলীয় কর্মীদের প্রতি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়ের নির্দেশ, “মোদী সরকারের বিরুদ্ধে এলাকায় এলাকায় জনমত তৈরি করতে হবে।”
আগামী এক বছরের মধ্যে কলকাতা-সহ রাজ্যের প্রায় ৮০টি পুরসভার ভোট। সেই লক্ষ্য মাথায় রেখেই তৃণমূল নেতৃত্ব বিজেপি-কে প্রতিরোধের কাজ এখন থেকেই শুরু করতে চান। কারণ, লোকসভায় বিজেপি-র ভোট এ রাজ্যে অনেকটাই বেড়েছে। মুকুলবাবুরা অবশ্য রাজ্যে বিজেপি-র প্রভাব বেড়েছে বলে প্রকাশ্যে মানতে রাজি নন। শ্যামবাজারে এ দিনও গণ-অবস্থানের মঞ্চ থেকে মুকুলবাবু জানিয়েছেন, রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত ১৩৬টি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি-র জামানত জব্দ হয়েছে! কিন্তু মুখে তা বললেও বিজেপি-কে প্রতিরোধকেই যে তাঁরা এখন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন, এ দিন আন্দোলনের মঞ্চ থেকে অধিকাংশ তৃণমূল নেতার বক্তব্যেই তা স্পষ্ট।
কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত লোকাল ট্রেনের ভাড়ায় ছাড় ঘোষণা করার পরেও আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে কোনও কোনও মহলে প্রশ্ন উঠছে। মুকুলবাবুর দাবি, “ওটা মানুষকে ভাঁওতা দেওয়া হচ্ছে! রাজ্যে বহু নিত্যযাত্রীকেই ৮০ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করে যাতায়াত করতে হয়।” রেলভাড়া বৃদ্ধিকে জনস্বার্থ-বিরোধী আখ্যা দিয়ে প্রতিটি শাখা সংগঠনকে রাস্তায় নামিয়ে রাজ্য জুড়েই সপ্তাহব্যাপী আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়েছে তৃণমূল। দলের শীর্ষ নেতাদেরও আন্দোলনে সামিল হতে বলেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্যামবাজারে যেমন দলের যুব সংগঠনের কর্মসূচিতে এ দিন রাজ্যের মন্ত্রী, বিধায়ক এবং সাংসদদের অনেকেই যোগ দিয়েছিলেন। রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের সাংসদ ও বিধায়কেরা জানিয়ে দেন, বর্ধিত রেলভাড়া সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না করা হলে তৃণমূলের আন্দোলন চলবে।
জ্যোতিপ্রিয়বাবুর দাবি, মোদী-সরকার রাজ্যের জন্য কেরোসিনের বরাদ্দ কমাচ্ছে এবং লিটার প্রতি দামও বাড়াতে চলেছে। খাদ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, “মোদী সরকার এবং বিজেপি যতই জনস্বার্থ-বিরোধী কর্মসূচি নিক, আমরাও লাগাতার আন্দোলন চালাব।” রাজীববাবুও বলেন, “বিজেপি-র সরকার কোনও জনস্বার্থ-বিরোধী নীতি যাতে মানুষের উপর না চাপাতে পারে, তার জন্য আমাদের আন্দোলন চালাতে হবে।” ৭ জুলাই সংসদের অধিবেশন শুরু হলে তৃণমূল সাংসদেরাও বর্ধিত রেলভাড়া প্রত্যাহারের দাবিতে সরব হবেন।
দলের যুব সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পরে বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খানের নেতৃত্বে শ্যামবাজারের কর্মসূচি যেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তেমনই ছিল বীজপুরের বিধায়ক ও দলের নবনিযুক্ত কার্যকরী সভাপতি শুভ্রাংশু রায়ের জন্যও। বীজপুর থেকে এ দিন দলীয় কর্মী-সমর্থক বোঝাই বেশ কয়েকটি বাস শ্যামবাজারে আসে। দলের ছাত্র সংগঠনের রাজ্য সভাপতি শুঙ্কুদেব পণ্ডার নির্দেশে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা থেকেও প্রচুর ছাত্র-ছাত্রী শ্যামবাজারের গণ-অবস্থানে আসে। বিধানসভার অধিবেশনের ফাঁকে দলের অধিকাংশ বিধায়কও হাজির ছিলেন শ্যামবাজারে। কর্মসূচিতে ভিড়ের বহর দেখে সৌমিত্র ও শুভ্রাংশু দু’জনেই সন্তুষ্ট। রেলভাড়া নিয়ে দলের সমস্ত শাখা সংগঠনের আন্দোলনকে সফল করতে তাঁরা আহ্বান জানান।