খাস বিডিও অফিসের কাছেই সংস্কারের অভাবে বেহাল পার্কে সন্ধ্যা নামতেই দুষ্কৃতীদের দাপট বাড়ছে বলে অভিযোগ উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদে। পার্কটি পঞ্চায়েত সমিতির নিয়ন্ত্রণাধীন। প্রায় পাঁচ বছর ধরে পার্কটির সংস্কার করা হয়নি বলে দাবি। তাই সাধারণ মানুষের যাতায়াতও কমে গিয়েছে। দুষ্কৃতীরা সেখানে মদ ও জুয়ার আসর বসাচ্ছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কেন পঞ্চায়েত সমিতি পার্কটি সংস্কার করছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা। সেই সঙ্গে, এলাকায় নজরদারি নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে অবিলম্বে পার্কটি সংস্কারের দাবিতে বাসিন্দাদের নিয়ে আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছে তৃণমূল। এই পঞ্চায়েত সমিতিটি আগে কংগ্রেসের দখলে ছিল। এখন সিপিএমের হাতে। তৃণমূলের অভিযোগ, দুই দলই পার্কটি সংস্কারে উদাসীন। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সিপিএমের সৌমিতা সরকারের দাবি, ‘‘পঞ্চায়েত সমিতির নিজস্ব তহবিল না থাকায় টাকার অভাবে পার্কটি সংস্কার সম্ভব হচ্ছে না। কয়েক মাস আগে জেলা পরিষদের কাছে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।’’ জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি তৃণমূলের পূর্ণেন্দু দে জানিয়েছেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখে উপযুক্ত পদক্ষেপ করবেন।
২০০৮ সালে তত্কালীন কংগ্রেস পরিচালিত হেমতাবাদ পঞ্চায়েত সমিতি প্রায় তিন লক্ষ টাকা খরচে বিডিও অফিস সংলগ্ন দু’বিঘা সরকারি জমিতে পার্কটি তৈরি করে। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকেই পার্কটি বেহাল হয়ে পড়ে। এরপরেই সেটি বন্ধ করে দেয় পঞ্চায়েত সমিতি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন আগেই পার্কের চারটি দোলনা ও দু’টি শৌচাগারের দরজা চুরি হয়ে গিয়েছে। ছোটদের খেলার একটি স্লিপারও ভেঙে পড়ে রয়েছে। সিমেন্টের তৈরি পাঁচটি বেঞ্চও ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আগাছা, আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সেখানেই দীর্ঘদিন ধরে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দুষ্কৃতীরা মদ ও নেশার আসর বসাচ্ছে। ফলে সন্ধ্যার পর ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াত করতে নিরাপত্তার অভাববোধ করছেন বাসিন্দারা।
হেমতাবাদ সদর এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ তানিয়া সরকার ও সব্জি ব্যবসায়ী রানা বর্মনের দাবি, পার্কটি বেহাল হয়ে থাকায় একদিকে যেমন এলাকার কচিকাঁচারা খেলাধুলো করার সুযোগ পাচ্ছে না, তেমনই পরিত্যক্ত ওই পার্কে সমাজবিরোধী কার্যকলাপের জেরে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। তাঁরা বলেন, ‘‘এলাকার সুষ্ঠ পরিবেশ ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে পঞ্চায়েত সমিতি কেন পার্কটি সংস্কার করছে না, তা আমাদের অজানা। পুলিশের নজরদারি থাকলে সন্ধ্যার পর পার্ক চত্বরটি দুষ্কৃতীদের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হত না।’’
হেমতাবাদ ব্লক তৃণমূল সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় দত্তের অভিযোগ, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে অবিলম্বে পার্কটি সংস্কারের দাবিতে বাসিন্দাদের নিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য পঞ্চায়েত সমিতির দফতর ঘেরাও করা হবে।
পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি কংগ্রেসের শিবানী মজুমদারেরও দাবি, ‘‘আমরা ক্ষমতায় থাকাকালীন পার্কটি সংস্কারের জন্য ২০১১ সালে রাজ্য গ্রামোন্নয়ন দফতরের কাছে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু বরাদ্দ না মেলায় সেটি সংস্কার করা সম্ভব হয়নি।’’
হেমতাবাদ থানার ওসি মনোজিৎ দাস বলেন, ‘‘পরিত্যক্ত পার্কটিতে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ রুখতে মাঝে মধ্যেই পুলিশ অভিযান চালায়। এখন থেকে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।’’