রাজ্যের মন্ত্রী মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর এবং তাঁর ছেলে সুব্রতকে দলে টানা হয়েছে। দলে এসেই সুব্রত বনগাঁ লোকসভার উপনির্বাচনে বিজেপি-র প্রার্থী। কিন্তু একশো কিলোমিটার দূর থেকেও তাঁরা মুকুল রায়ের মতো নেতাদের ছুঁয়ে দেখবেন না বলে স্পষ্ট করে দিলেন বিজেপি-র কেন্দ্রীয় সম্পাদক তথা রাজ্যে দলের পর্যবেক্ষক সিদ্ধার্থনাথ সিংহ!
তৃণমূল ভাঙিয়ে মন্ত্রী মঞ্জুলদের দলে টানার পরে সুব্রতকে উপনির্বাচনে প্রার্থী করায় বিজেপি-র একাংশে ক্ষোভ আছে। বস্তুত, তৃণমূল থেকে ইদানীং কালে যাঁরা বিজেপি-তে যোগ দিচ্ছেন, তাঁদের কাউকে কাউকে নিয়ে আদি গেরুয়া শিবিরের অন্দরে কিছু সংশয় আছে। তার উপরে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, মুকুল সিবিআই থেকে বাঁচতে তাঁদের দলের দরজায় দরজায় ঘুরছেন। স্বভাবতই বিজেপি-র কর্মী মহলে প্রশ্ন উঠেছিল, তা হলে কি মুকুলকেও দলে নিয়ে নেওয়া হতে পারে? বনগাঁয় উপনির্বাচনের জন্য কর্মিসভা করতে এসে বৃহস্পতিবার সেই সংশয়ই নিরসন করতে চেয়েছেন সিদ্ধার্থনাথ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট বলেছেন, “সিবিআইয়ের হাত থেকে বাঁচতে মুকুল রায় দিল্লি যাচ্ছেন। সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নাড়ছেন। কিন্তু ওঁরা ১৭ লক্ষ গরিবের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আমরা এঁদের দলে আসতে দেব না। ১০০ কিলোমিটার দূর থেকেও ওঁকে (মুকুল) ছোঁব না!”
মঞ্জুলের পরে তৃণমূল থেকে আরও অনেক রথী-মহারথী তাদের দলে আসবে বলে কয়েক দিন ধরেই দাবি করছে বিজেপি। বনগাঁর কর্মিসভায় গিয়ে সিদ্ধার্থনাথও বলেছেন, “সারদার সঙ্গে যুক্ত নন, এমন অনেকে আসবেন। এলেই সাংবাদিকদের ডেকে তা জানানো হবে।” আর যাঁরা সারদা-কাণ্ডে ফাঁসতে পারেন? সিদ্ধাথর্নাথের কটাক্ষ, “তাঁদের সকলের জায়গা হবে আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে। সে জন্য এখন জেল সাজিয়ে তোলা হচ্ছে!” বিজেপি-র কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের এ দিনের কথাতেই পরিষ্কার, তৃণমূল বা অন্য কোনও দল থেকে ‘কলঙ্কিত’ তেমন কাউকে তাঁরা দলের পতাকা ধরাতে চান না। এ ব্যাপারে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে দলের মধ্যের ক্ষোভ-সংশয়ও কাটাতে চেয়েছেন সিদ্ধার্থ।
বনগাঁ যাওয়ার পথে এ দিন হাবরা চোংদা মোড়ে সিদ্ধার্থনাথকে সংবর্ধনা জানানোর আয়োজন করেছিলেন দলের স্থানীয় নেতৃত্ব। সেখানে সিদ্ধার্থনাথ তাঁর চেনা ভঙ্গিতে বলেছেন, “২০১৫ সালে ভাগ মুকুল ভাগ! বনগাঁয় জিতলে ২০১৬ সালে ‘ভাগ মমতা ভাগ’ও হবে। এখানে আবার আসব। আরও বেশি করে ভাগ মমতা ভাগ বলে যাব!” তাঁর সঙ্গে ছিলেন বসিরহাট দক্ষিণের বিধায়ক শমীক ভট্টাচার্য, রীতেশ তিওয়ারিরা।
কর্মিসভার পরে সিদ্ধার্থনাথ এক পাশে প্রার্থী সুব্রত, অন্য পাশে গত লোকসভা ভোটে বনগাঁর প্রার্থী কে ডি বিশ্বাসকে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। প্রার্থী হিসাবে সুব্রতর নাম ঘোষণার পরে দলের একাংশে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। রাহুলবাবু বারাসতে সভা করতে গেলে কর্মীরা তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। বিজেপি-র কিছু কর্মী-সমর্থক গাইঘাটায় মিছিল করে রেল অবরোধও করেন। প্রার্থী হিসাবে কে ডি-কেই চেয়েছিলেন তাঁরা। সিদ্ধার্থনাথ এ দিন অবশ্য দলের ঐক্যের ছবিই তুলে ধরতে চেয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমরা বুঝেশুনেই এক জন যুবককে প্রার্থী করেছি। উনি বিদেশে লেখাপড়া করেছেন। আপনাদের সমস্যা উনি বোঝেন। মোদীজি যে উন্নয়নের রাস্তায় হাঁটছেন, সেই শিক্ষায় উনি শিক্ষিত।”
ঝাড়গ্রামে এ দিনই আবার ভিড়ে-ঠাসা সভায় বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি রাহুলবাবু রাজ্য সরকারকে ‘রাক্ষসী পরিচালিত সরকার’ বলে কটাক্ষ করেছেন। রাহুলবাবু বলেন, “কোনও নির্বাচনকে সামনে রেখে এখানে আসিনি। এই সভার ভিড় প্রমাণ করছে, জঙ্গলমহলে বিজেপি-র জনসমর্থন কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে! দলে দলে মানুষ বিজেপি-তে যোগ দিচ্ছেন। তৃণমূল সরকারের বিদায়ের বাঁশি বাজাতে এসেছি!”