মঙ্গলবার কৃষ্ণনগর লোকালে দুই যাত্রীর মোবাইল ফোন ছিনতাই করা নিয়েই গোলমালের সূত্রপাত। এই ঘটনায় ধৃত তিন জনকে জেরার পরে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার ঘটনার পরে রাতে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে তিন জনকে ধরে। ধৃতদের নাম কানা ভোলা, সাদ্দাম ওরফে বাঁইয়া ও রাহুল দাস। রাহুল বোমা ফাটার ঘটনায় আহত রাজা দাসের জামাইবাবু। জেরায় তারা জানিয়েছে, শিয়ালদহ থেকে তারা ট্রেনে উঠেছিল। ওই কামরার দু’জন যাত্রীর কাছ থেকে তারা দু’টি মোবাইল পকেটমারি করে। দমদম পেরোলে ওই মোবাইলের খোঁজ করতে থাকেন যাত্রীরা।
কানা ভোলা ওই দু’টি মোবাইল নিয়ে টিটাগড় স্টেশনে নেমে পালিয়ে যাওয়ার পরেই যাত্রীরা রাজাকে সন্দেহ করে ঘিরে ফেলেন। ওই সময়ে কামরার পাশের গেটে বাঁইয়া লুকিয়ে ছিল। রাজাকে বাঁচাতে শেষ পযর্ন্ত ছুরি নিয়ে এসে যাত্রীদের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে সে। গোলামালের সময় ধাক্কাধাক্কিতে রাজার হাতের ব্যাগটি মাটিতে পড়ে যায়। তাতেই বোমাটি রাখা ছিল। তখন সেটি ফেটে যায়। তাতেই আহত হন যাত্রীরা।
বুধবার ধৃত তিন জনকেই শিয়ালদহ আদালতে তোলে পুলিশ। শিয়ালদহের রেলপুলিশ সুপার দেবাশিস বেজ জানান, ‘‘কানা ভোলা ও সাদ্দামের পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজত আর রাহুলকে ১৫ দিনের জেল হেফাজত দিয়েছেন বিচারক।’’ তবে এর পিছনে আর কিছু আছে কি না, তার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন রেলপুলিশ সুপার। আহতেরা একটু সুস্থ হলে তাঁদের সঙ্গেও কথা বলা হবে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। রেল সূত্রের খবর, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহতেরা স্থিতিশীল। তবে তাঁদের কথা বলার মতো অবস্থা এখনও হয়নি।
রেল সূত্রের খবর, বুধবার থেকে শেষ রাতের কয়েকটি এবং ভোরের কয়েকটি ট্রেনে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্তা করছে রেল। মহিলা কামরার পাশাপাশি সব কামরাতেই টহলদারি করবে আরপিএফ ও জিআরপি।