ফাঁড়িতে ঢুকে পুলিশকে পেটানোর অভিযোগ সামনে আসার পরে এনজেপি ও লাগোয়া এলাকায় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমশ দানা বাঁধছে।
বুধবার এনজেপি স্টেশন ও লাগোয়া ২০টি কলোনি এলাকায় দিনভর তা নিয়েই চলছে আলোচনা। ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের অনেকেই নিরাপত্তার প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, নেতাদের কথা না শোনায় ফাঁড়িতে ঢুকে পুলিশকে পেটানোর পরে যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তা হলে আগামী দিনে অনেক কিছু ঘটার আশঙ্কা তৈরি হবে। শুধু তাই নয়, এনজেপির ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যদের কয়েকজন জানান, এর পরে তো শাসক দলের কেউ যদি অনায্য দাবি করে তা হলে মুখ খোলাই মুশকিল হবে। যদিও তৃণমূলের এনজেপির অন্যতম নেতা বিজন নন্দীর (জন নামে পরিচিত) দাবি, ‘‘এনজেপিতে জুলুমের রাজত্ব বাম আমলে ছিল। এখন সব স্বাভাবিক রয়েছে। ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পরে বামেরা মিথ্যে অভিযোগ সামনে এনে পায়ের তলার মাটি খুঁজছে।’’
পক্ষান্তরে, সিপিএম কাউন্সিলর তথা পুরসভার মেয়র পারিষদ মুকুল সেনগুপ্ত, শঙ্কর ঘোষদের দাবি, বাম আমলেই এনজেপিতে শান্তি বজায় রাখা হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, ‘‘তৃণমূল নেতাদের একাংশের দাদাগিরিতে এনজেপির পরিবেশ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। না হলে পুলিশ মার খেল, থানায় আক্রমণ হল, পুলিশ এখনও কিছুই করতে পারছে না কেন? তা হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় তা বোঝাই যাচ্ছে।’’ সিপিএম নেতানেত্রীদের অভিযোগ, ‘‘পুলিশের একাংশের মদতেই এনজেপিতে অভিযুক্তদের বাড়াবাড়ি হয়েছে।’’
এনজেপি এলাকার প্রবীণ কয়েকজন বাসিন্দা অবশ্য শাসক-বিরোধীদের চাপানউতোর দেখে আরও বেশি উদ্বিগ্ন। তাঁদের কয়েকজন জানান, বাম আমলে কী ভাবে তোলা আদায় হতো তা তাঁরা অনেকেই দেখেছেন। ইদানীং তা আরও খোলাখুলি হচ্ছে বলে ওই প্রবীণদের অভিযোগ। শিলিগুড়িতে বামেরা পুরবোর্ড দখলের পরে নতুন করে দু-দল যুযুধান হওয়ায় তাঁরা এলাকা আরও উত্তপ্ত হবে কি না সেই প্রশ্নে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। যদিও পুলিশের তরফে এলাকায় আরও নজরদারির আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ কর্তাদের অনেকে। তাতে কতটা কাজের কাজ হবে তা নিয়ে পুলিশের অন্দরেই সংশয় রয়েছে। কারণ, শিলিগুড়ি কমিশনারেটের কয়েকজন অফিসার জানান, পুলিশের উপর মহল কড়া মনোভাব না দেখালে নীচুতলার কর্মীদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়।
নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন এনজেপি-সহ অন্য থানার নীচুতলার কর্মীরাও। কাছের এক থানার কর্মী বলেন, ‘‘যেভাবে জলেশ্বরবাবুকে মারার পরেও ঊর্ধ্বতন কর্তারা মামলা করতে বা পদক্ষেপ করতে গড়িমসি করছেন, তাতে এরপরে আমাদের প্রাণ সংশয় হলে তাঁরা দায় ঝেড়ে ফেলবেন। আমরা বুঝতে পারছি না কাদের সঙ্গে সহকর্মী হিসেবে কাজ করছি।’’ এক পদস্থ অফিসার আক্ষেপ করেন, ‘‘বাড়ি থেকে পর্যন্ত আমাদের ধিক্কার জানিয়েছে স্ত্রী-ছেলে-মেয়েরা। প্রিয়জনদের কী জবাব দেব বুঝতে পারছি না। এবার তো চাকরিই ছাড়ার কথা ভাবতে হবে!’’
এই অবস্থায়, এ দিন বিকেলে পাল্টা মিছিল করে এলাকায় সিপিএমে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা অন্যতম সাধারণ সম্পাদক জন নন্দী, তাঁর ভাই তথা প্রাক্তন কাউন্সিলর জয়দীপবাবু, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর চন্দ্রাণী মণ্ডল, আইএনটিটিইউসির জেলা কমিটির সদস্য বিমল সরকাররা মিছিলে নেতৃত্ব দেন। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন চত্বরে থাকা আইএনটিটিইউসির কার্যালয় থেকে মিছিল এনজেপি নেতাজি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে রাস্তা আটকে পথসভা করেন তাঁরা। আগের দিনের ঘটনায় শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্যকে দায়ী করেন তাঁরা।
ছবি: বিশ্বরূপ বসাক।