সিআইডি-র তলবে হাজির হলেন না ডানকান চা বাগানের মালিক গৌরীপ্রসাদ গোয়েনকা এবং তাঁর ছেলে হর্ষবর্ধন গোয়েনকা। তবে সংস্থার এক ডিরেক্টর এম এইচ শেনয় সোমবার সকালে ভবানীভবনে গিয়ে গোয়েন্দাদের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁকে এক প্রস্ত জিজ্ঞাসাবাদও করেন তদন্তকারীরা। পরে ভবানীভবনের বাইরে ডানকান চা বাগানের ওই ডিরেক্টর বলেন, ‘‘একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আমরা গোয়েন্দাদের যা বলার বলেছি।’’
সিআইডি-র আইজি (২) বিনীত গোয়েল বলেন, ‘‘এক শ্রমিকের অভিযোগের ভিত্তিতে ডানকান সংস্থার মালিক এবং তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার ফের ওঁদের আসতে বলা হয়েছে।’’ সিআইডি কর্তারা বলেছেন, ওই অভিযোগে অনাহারে শ্রমিক মৃত্যুর প্রসঙ্গ নেই। তবে তদন্তে যদি ওই প্রসঙ্গ ওঠে, তা হলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
ভবানীভবন সূত্রের খবর, এ দিন চা বাগানের ডিরেক্টর গোয়েন্দাদের জানান, মালিক রাজ্যের বাইরে রয়েছেন। তাই তিনি এসেছেন। মালিককে এ ব্যাপারে আরও সময় দেওয়া হোক বলেও গোয়েন্দাদের অনুরোধ করেছেন তিনি।
গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, গত ২০ অক্টোবর দার্জিলিংয়ে ডানকান গোষ্ঠীর একটি চা বাগানের শ্রমিক নেতা দিলবীর সুব্বা মজুরি, রেশন, পিএফ সহ বকেয়া পাচ্ছেন না বলে থানায় অভিযোগ করেছিলেন। তার ভিত্তিতে বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণার মামলা দায়ের করে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শনিবার ওই মামলাটির তদন্তভার নেয় সিআইডি। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, সংস্থার হাতে থাকা ১৬টি বাগানেই শ্রমিকদের কত পাওনা বকেয়া রয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি কেমন, তার বিস্তারিত রিপোর্টও সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরপরেই সোমবার ওই চা বাগানের মালিক জি পি গোয়েনকা এব চার ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভবানী ভবনে ডেকে পাঠানো হয়।
উত্তরবঙ্গে পাহাড়-সমতল মিলিয়ে ওই গোষ্ঠীর মোট ১৬টি চা বাগান রয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, বছরখানেক ধরে সব বাগানেই অচলাবস্থা চলছে। ফলে অনিয়মিত হয়ে পড়েছে শ্রমিকদের বেতন সহ অন্য সুযোগ-সুবিধে। এর জেরে শ্রমিকরা অর্ধাহার-অপুষ্টির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ। শনিবার রাতে এবং রবিবার বিকেলে বাগরাকোট চা বাগানে আরও দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। যা নিয়ে গত সাত মাসে ওই বাগানে মোট ২৫ জন শ্রমিকের মৃত্যু হল।
উত্তরবঙ্গের বাগানগুলির পরিস্থিতি কিংবা সিআইডি-র তদন্ত, কোনও বিষয়েই ডানকান গোষ্ঠীর তরফে এ দিন কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। দিনভর চেষ্টা করেও সংস্থার কোনও শীর্ষ কর্তা বা মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। যদিও একটি সূত্রের দাবি, সব বাগানই খোলা এবং উৎপাদনও হচ্ছে। যে বাগরাকোট বাগানে অনাহারে শ্রমিকের মৃত্যু ও বেতনের অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, তাও অস্বীকার করে সূত্রটির দাবি, অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে শ্রমিকদের বেতন ও রেশন দেওয়া হয়েছে।
তবে বাগানগুলি খোলা থাকলেও তা আদৌ পুরোদমে চলছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। চা শিল্প সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গের ১১টি বাগানের মধ্যে গোলগাছ ছাড়া বাকি বাগানগুলির চা মূলত শিলিগুড়ি নিলাম কেন্দ্রে বিক্রি হয়। গোলগাছ বাগান থেকে কিছু চা কলকাতার নিলাম কেন্দ্রে আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিলিগুড়ি নিলাম কেন্দ্রে বাগানগুলি থেকে ২০ লক্ষ কেজি চা পাঠানো হয়েছে। ২০১৪-এ গোটা বছরে সেখানে প্রায় ৯০ লক্ষ কেজি চা পাঠানো হয়েছিল। সেই হিসেবে এ বার বাকি তিন মাসের হিসেবে গত বছর শিলিগুড়ি নিলাম কেন্দ্রে পাঠানো চায়ের পরিমাণের ধারেকাছেও পৌঁছতে পারবে না ডানকান গোষ্ঠী, মত সংশ্লিষ্ট মহলের। এ বার কলকাতা নিলাম কেন্দ্রেও তারা অল্প কিছু চা পাঠিয়েছে। চা শিল্পের একাংশ মনে করছেন, নিলামের বাইরে কিছু চা বিক্রি হলেও সার্বিক ভাবেই বাগানগুলির উৎপাদন কম হওয়ায় নিলাম কেন্দ্রেও কম চা এসেছে। যদিও এ ব্যাপারেও সংস্থাটির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
নয়া সভাপতি। করণদিঘি ব্লকের ডালখোলা শহর তৃণমূল কমিটির সভাপতি মনোনীত হলেন তনয় দে। ডালখোলা পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তনয়বাবুকে সোমবার লিখিতভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন জেলা তৃণমূল সভাপতি অমল আচার্য। দীর্ঘদিন ধরে ডালখোলা শহর তৃণমূল কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন স্বদেশ সরকার। স্বদেশবাবুকে এদিন দলের জেলা সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল সূত্রের খবর, দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে এদিন চোপড়ার বাসিন্দা, তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক সাহিন আখতারকে দল থেকে বহিষ্কার করায় জেলা সম্পাদকের একটি পদ ফাঁকা হয়ে যায়। স্বদেশবাবুকে সেই পদে এনে তনয়বাবুকে দলের ডালখোলা শহর কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেন অমলবাবু।