Advertisement
E-Paper

স্ট্রবেরিতে লক্ষ্মীলাভ

কী অলুক্ষণে কথা। এই নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ ছেলের সঙ্গে বাবার চূড়ান্ত অশান্তি। গেল-গেল রব উঠেছিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলার গোগ্রাম জুড়ে। শেষমেশ অবশ্য নাছোড় ছেলে সুব্রত মহেশকে ৮ বিঘা জমির মধ্যে ৪ কাঠা ছেড়ে দিয়েছিলেন বাবা। ছোট্ট সেই জমিতেই স্ট্রবেরি চাষ করে ৫০ হাজার টাকা লাভ করেছিলেন সুব্রত। পরের বছর ১৫ কাঠা জমিতে চাষ করে লাভ হয় ২ লক্ষ টাকা। এ বছর ১ বিঘা ২ কাঠা জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করেছেন তিনি। সুব্রতর আশা, এ বার লাভের অঙ্ক চার লক্ষের কোটা ছোঁবে।

সুমন ঘোষ

শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০১৬ ০৩:৪৩
স্ট্রবেরি চাষের জমিতে সুব্রত মহেশ। ছবি: রামপ্রসাদ সাউ।

স্ট্রবেরি চাষের জমিতে সুব্রত মহেশ। ছবি: রামপ্রসাদ সাউ।

ধান ছেড়ে স্ট্রবেরি চাষ!

কী অলুক্ষণে কথা। এই নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ ছেলের সঙ্গে বাবার চূড়ান্ত অশান্তি। গেল-গেল রব উঠেছিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলার গোগ্রাম জুড়ে। শেষমেশ অবশ্য নাছোড় ছেলে সুব্রত মহেশকে ৮ বিঘা জমির মধ্যে ৪ কাঠা ছেড়ে দিয়েছিলেন বাবা। ছোট্ট সেই জমিতেই স্ট্রবেরি চাষ করে ৫০ হাজার টাকা লাভ করেছিলেন সুব্রত। পরের বছর ১৫ কাঠা জমিতে চাষ করে লাভ হয় ২ লক্ষ টাকা। এ বছর ১ বিঘা ২ কাঠা জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করেছেন তিনি। সুব্রতর আশা, এ বার লাভের অঙ্ক চার লক্ষের কোটা ছোঁবে।

চাষে সাফল্যের পুরস্কার স্বরূপ গত বছর মাটি উৎসবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে কৃষকরত্ন পুরস্কার পেয়েছেন সুব্রত। শুধু প্রথাগত চাষের ধারণা ভাঙাই নয়, আধুনিক পদ্ধতিতে স্ট্রবেরি চাষের জন্য গত রবিবার খড়্গপুর আইআইটি-র ‘ফুড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিভাগ প্রগতিশীল চাষি হিসেবে তাঁকে পুরস্কৃত করল। সুব্রতর সঙ্গেই আইআইটি সম্মান জানিয়েছে হুগলির দশঘড়া গ্রামের কৃশানু সিমলাইকে। ‘ড্রিপ ইরিগেশন’ পদ্ধতির মাধ্যমে আলু বীজ তৈরির জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হল তাঁকে।

Advertisement

দু’বছর আগে স্ট্রবেরি চাষ নিয়ে ছেলের সঙ্গে অশান্তির কথা শুনে কিছুটা লজ্জাই পেলেন সুব্রতর বাবা পঞ্চানন মহেশ। তাঁর কথায়, ‘‘ও সব কথা ছাড়ুন তো। ছেলের কাজে এখন আমি খুশি।’’ আর সুব্রত বলেন, ‘‘এই দু’বছরে ঘরে বাইরে অনেক লড়াই করতে হয়েছে। মাঠে দাঁড়িয়ে থাকলে নিজের মনেই আনন্দে হাঁসতে থাকি। দিন রাত মাঠেই থাকতে ভাল লাগে।”

শুধু স্ট্রবেরি নয়, ফুলের চাষও করেন সুব্রত। এখন তিনি ড্রাগন ফ্রুটের চাষও শুরু করেছেন। তাঁর কথায়, “ধান মানেই লক্ষ্মী, গ্রামের মানুষের মধ্যে এই ধারণা থেকে গিয়েছে। কিন্তু আমি প্রমাণ করে দেখিয়েছি, অন্য চাষে আরও বেশি লক্ষ্মী লাভ হয়।’’ তিনি বলেন, ‘‘ধীরে ধীরে এখন অনেকেই আমার দেখে ফুল চাষ করছেন। তবে স্ট্রবেরি চাষের সাহস এখনও দেখাননি।”

সুব্রতকে যিনি এই কাজে উত্‌সাহ দিয়েছেন, নদিয়ার রাণাঘাটের সহ-কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) হরিদাস মণ্ডল বলেন, “পিংলাকে মহাবালেশ্বর (যেখানে সব থেকে বেশি স্ট্রবেরি চাষ হয়) বানিয়ে ছাড়ব, দেখুন না।’’ তিনি জানান, এই চাষ খুব লাভজনক। প্রথম বছরে বিঘা প্রতি ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ফল উত্‌পাদন হয় ন্যূনতম ১৮০০-২০০০ কিলোগ্রাম। স্ট্রবেরির দাম থাকে কিলোগ্রাম প্রতি ১৫০ টাকা। দাম ১০০ টাকা প্রতি কিলোগ্রাম ধরলেও ২ লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে। লাভের পরিমাণ পরে আরও বাড়বে।

চাষে কী পদ্ধতি ব্যবহার করছেন?

এ বার নতুন পদ্ধতিতে স্ট্রবেরি চাষ করেছেন সুব্রত। জমিতে দিয়েছেন পলিশিট। যার ফলে আগাছা জন্মাবে না। কম সেচে মাটিতে রস থাকবে বেশিদিন। ফলে সেচের খরচ কমবে। আর আগাছা দমন করতে প্রায় খরচ কমবে ৬০ হাজার টাকার মতো। সুব্রতর কথায়, “তাই লাভ বেশি হবে। আর এই পদ্ধতি প্রয়োগের জন্যই তো আইআইটি আমাকে

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy