দলে প্রকাশ কারাটদের চাপে কেন্দ্রীয় কমিটির ফরমানের পরে একটু ঘুরপথে চলতে হচ্ছিল। বরাবর বাস্তববাদী নেতা বলে পরিচিত সুভাষ চক্রবর্তীর স্মরণে আবার আগল খুলে ফিরে এল ‘জোটে’র পক্ষে সরাসরি সওয়াল! এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে গৌতম দেব, আব্দুল মান্নানেরা ঘোষণা করলেন— জোট ছিল, আছে, থাকবে!
সুভাষ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বুধবার দমদমের রবীন্দ্র ভবনের মঞ্চ আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজনৈতিক ছিল না। কিন্তু অরাজনৈতিক মঞ্চকেই পুরোপুরি ব্যবহার করেছেন দুই বিরোধী দলের রাজনীতিকেরা। বাম আমলের মন্ত্রী এবং
দাপুটে সংগঠক সুভাষবাবু চিরকালই চ্যালেঞ্জ করতেন শুধু তত্ত্বনির্ভর দলীয় অবস্থানকে। তাঁকে স্মরণ
করেই এ দিন সিপিএমের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক গৌতমবাবু বলেছেন, ‘‘সুভাষদা কখনও নতুন কিছু করতে ভয় পেতেন না। নতুন কিছু আসাই স্বাভাবিক। পাঁচ বা ছয়ের দশকের কমিউনিস্ট পার্টি আর ফেরত পাওয়া যাবে না। অতীতের কথা মনে রেখেই ২০২০ সালের কমিউনিস্ট পার্টি করতে হবে।’’ এই সঙ্গেই তাঁর সংযোজন, মানুষের জোট ছিল এবং থাকবে। জরুরি অবস্থার সময়েও নানা দল হাত ধরেছিল। এখন যে পরিস্থিতি দেশে ও রাজ্যে তৈরি হয়েছে, তাতেও জোট বেঁধেই দাঁড়াতে হবে।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বাম নেতার প্রয়াণ দিবসের আলোচনায় প্রধান বক্তা হিসাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা মান্নানকে। কোনও রাখঢাক না করেই বিরোধী দলনেতা ফের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উদাহরণ টেনেছেন। বলেছেন, হিটলারকে রুখতে উইনস্টন চার্চিল, ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট ও জোসেফ স্তালিন এক জায়গায় এসেছিলেন। তার জন্য চার্চিল কমিউনিস্ট হয়ে যাননি, স্তালিনও সাম্রাজ্যবাদের সমর্থক হয়ে ওঠেননি। মান্নানের কথায়, ‘‘আমি কমিউনিস্ট নই। হবও না কোনও দিন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্রের উপরে যে আক্রমণ নেমে এসেছে, তার মোকাবিলায় কংগ্রেস, বাম এবং ধর্মনিরপেক্ষ সব শক্তিকে জোট বেঁধেই লড়তে হবে। নইলে আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না!’’