বাংলাদেশে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৎপরতা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। সূত্রের খবর, গত ছ’দিনে ৩০টির বেশি জেলা-উপজেলায় দলীয় কার্যলয়ে শেখ হাসিনার দলের কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয় উপস্থিতির খবর পাওয়া গিয়েছে। শনিবার, একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে একাধিক জায়গায় মিছিল, স্লোগান, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নিষিদ্ধ থাকা ওই দলের নেতা-কর্মীরা। ওই ঘটনার জেরে বেশ কয়েক জনকে আটকও করেছে পুলিশ।
ভোট-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের গণসংগঠনগুলির তৎপরতা নজর কেড়েছে অনেকেরই। চট্টগ্রামে শহিদ মিনারে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের তরফে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর একটি ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ২২ সেকেন্ডের ওই ভিডিয়োয় দেখা যায়, চার নেতা-কর্মী ফুল হাতে শহিদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে গিয়ে স্লোগান দিয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন ছাত্রলীগের কয়েক জন। তাঁদের হাতে ছিল জাতীয় ও দলীয় পতাকা, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি।
পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে শুক্রবার জাতীয় পতাকা তোলেন কয়েক জন। শনিবার দুপুরে সেখানে হাজির হয়ে দলের কিছু কর্মী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এর ভিডিয়ো সামাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যায় কে বা কারা দলীয় কার্যালয়ে টায়ার দিয়ে আগুন লাগায়। গাইবান্ধা পুর শহিদ মিনারে ভাষা শহিদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। রাজবাড়ির গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি এবং কার্যালয় পুনরুদ্ধারের চেষ্টা হয়। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মানিকগঞ্জ বাজারে আঞ্চলিক কার্যালয়ে শনিবার সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন নেতা-কর্মীরা। জামালপুর, সাতক্ষীরা, যশোর, হবিগঞ্জ, কক্সবাজার থেকেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের তৎপরতার খবর পাওয়া গিয়েছে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিমের মতে, এটা ভাষা আন্দোলনের মাস। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের এই সময়ে দলীয় কর্মীরাও অনেক বেশি উজ্জীবিত থাকেন। রবিবার তিনি আনন্দবাজারকে বলেন, ‘‘মুহাম্মদ ইউনূস বিদায় নিয়েছেন। ফলে দমনপীড়ন কমায় কর্মীদের মধ্যে আশা তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচিত সরকারের আমলে রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালানো সম্ভব হবে। তাই ধ্বংসস্তূপের উপরে দাঁড়িয়ে ফের রাজনৈতিক কাজ শুরু করছেন তাঁরা।’’
আওয়ামী লীগের তৎপরতার পিছনে বিএনপি-র সমর্থন দেখছেন এনসিপি-র জাতীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। দিন কয়েক আগে তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি-র সবুজ সঙ্কেত ছাড়া আওয়ামী লীগের পক্ষে এই ধরনের তৎপরতা চালানোর সুযোগ বা সাহস হত না।’’
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী আবহাওয়া তৈরি হচ্ছে বলে জামায়াতে ইসলামী-সহ কট্টরপন্থীরা যে ভাষ্য তৈরির চেষ্টা করেছিল, জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল তাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী শক্তি পরাজিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের কাছে এটা স্বস্তির বার্তা। নির্বাচিত সরকারের আমলে গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাজনীতির সুযোগ আসবে, এই আশায় তৎপর হয়েছেন শেখ হাসিনার দলের কর্মী-সমর্থকেরা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)