E-Paper

আনন্দ বা মঙ্গল নয়, নাম হচ্ছে বৈশাখী শোভাযাত্রা

গত বছর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের শাসনামলে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম নিয়ে আপত্তি উঠেছিল। কয়েক দশক ধরে চলা এই শোভাযাত্রার নাম পাল্টে সে বার ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪১

— প্রতীকী চিত্র।

দুয়ারে কড়া নাড়ছে বাঙালির পয়লা বৈশাখ। এই আবহে বাংলাদেশে পয়লা বৈশাখে যে শোভাযাত্রা হয় তার নামটাই পাল্টে দিল তারেক রহমান সরকার। ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ বা ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নয়, বাংলা নববর্ষের শোভাযাত্রার নাম হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায়চৌধুরী রবিবার এ কথা জানিয়েছেন।

গত বছর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের শাসনামলে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম নিয়ে আপত্তি উঠেছিল। কয়েক দশক ধরে চলা এই শোভাযাত্রার নাম পাল্টে সে বার ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ করা হয়। কিন্তু ও-পার বাংলায় নির্বাচিত সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পরেও বিষয়টি নিয়ে চর্চা থামেনি। সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী নিতাই বলেন, ‘‘নাম (শোভাযাত্রার নাম) নিয়ে একটা বিতর্ক রয়েছে। আমরা এই বিতর্কের অবসান চাই। এটা নিয়ে আগেও বড় মিটিং করেছি, এ বার থেকে আমাদের সরকারি সিদ্ধান্ত— আমরা এটাকে আনন্দ শোভাযাত্রাও বলব না, মঙ্গল শোভাযাত্রাও বলব না। শোভাযাত্রা হবে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে। তার নাম হবে বৈশাখী শোভাযাত্রা।’’

মন্ত্রী জানিয়েছেন, বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা, বৈশাখী আনন্দ— সব কিছুতে সরকার বৈশাখকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চায়, সেই দিকটি মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত। নাম ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ করায় ইউনেস্কোর স্বীকৃতির বিষয়ে করা প্রশ্নের জবাবে নিতাই জানান, ইউনেস্কোকে জানিয়ে দেওয়া হবে, এখন থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা হবে, এটাই ঐতিহ্য। বৈশাখের শোভাযাত্রাকে ইউনেস্কো স্বীকৃতি দিয়েছে, এটা হলমৌলিক দিক।

বাংলাদেশের একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, বর্ষবরণ শোভাযাত্রার নামকরণ নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে এক ই-মেল বার্তায় ইউনেস্কোর হেড অফ অফিস অ্যান্ড রিপ্রেজ়েন্টেটিভ সুজান ভাইজ বলেছেন, ‘ইউনেস্কো নামকরণ সংক্রান্ত জাতীয় সিদ্ধান্তে কোনও অবস্থান নেয় না, কারণ এ ধরনের বিষয় সদস্য রাষ্ট্রগুলির নিজস্ব এক্তিয়ার ও সিদ্ধান্তের মধ্যে পড়ে। যদি বাংলাদেশ সরকার এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ইউনেস্কোর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিতে হবে’। ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ কনভেনশনের অপারেশনার ডিরেকটিভস অনুযায়ী, এ ধরনের অনুরোধ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র করতে পারে এবং তা কমিটির অধিবেশনের অন্তত তিন মাস আগে বিবেচনার জন্য জমা দিতে হয়। বর্তমানে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ইউনেস্কোর রিপ্রেজ়েন্টেটিভ লিস্ট অব দ্য ইনটানজিবল হেরিটেজ অব হিউমানিটিতে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা অন পহেলা বৈশাখ’ নামেইঅন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের উদ্যোগে ১৯৮৯ সাল থেকে পয়লা বৈশাখ শোভাযাত্রা শুরু হয়। শুরুতে নাম ছিল ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচার-বিরোধী আন্দোলনের আবহে অমঙ্গলকে দূর করে মঙ্গলের আহ্বান জানিয়ে শোভাযাত্রার নামকরণ হয় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। চারুকলা বিভাগের একাংশের মতে, ‘মঙ্গল’ শব্দে আপত্তির কারণেই ওই শোভাযাত্রার নাম পাল্টে ছিল ইউনূস সরকার। এ বার সেই একই পথে হাঁটল তারেক রহমান সরকারও।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bangladesh Poila Boisakh

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy