বাংলাদেশের চট্টগ্রামে সংখ্যালঘু বৌদ্ধদের উপরে সরকারি মদতে। লাগাতার নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়ে সাম্প্রতিক শাক্য সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ওই সম্মেলনে উপস্থিত ভিক্ষু ও পণ্ডিতেরা দাবি তুলেছেন, চট্টগ্রামে বৌদ্ধদের উপরে নিপীড়ন বন্ধ করতে জাপান,দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বৌদ্ধ প্রধান দেশগুলি বাংলাদেশ সরকারের উপরে চাপ তৈরি করুক।
এক সময় পার্বত্য চট্টগ্রামে জনসংখ্যার কমপক্ষে ৯৭ শতাংশ ছিল চাকমা ও অন্যান্য জনগোষ্ঠী। যাঁরা সকলেই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। কিন্তু বর্তমানে ওই অনুপাত ৫০ শতাংশের নীচে নেমে গিয়েছে। সম্মেলনের অন্যতম আয়োজক তথা আইবিএমআর, কলকাতার অধ্যাপক মৃণালকান্তি চাকমার কথায়, ‘‘চাকমা বৌদ্ধদের উপরে নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে তাঁরা এই নির্যাতনের শিকার। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিরটাকায় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবীসংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রামে কাজ করছে। এবং তারা সরাসরি সেখানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী আদিবাসীদের উৎখাতে বলপ্রয়োগ করছে।’’ তাঁর অভিযোগ, ২০২৪-এ দেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে নিপীড়নের মাত্রা বহু গুণ বেড়েছে।
সম্মেলনে সমবেত ভিক্ষু ও পণ্ডিতরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে ভবিষ্যতে কট্টরপন্থীদের সরকার গঠিত হলে ব্রিটিশ আমলের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিধিমালা, ১৯০০ বাতিল হতে পারে এবং সেখানে আদিবাসী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যে শান্তি চুক্তি করেছিল, তা প্রত্যাহার করতে পারে। তা হলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলি তাদের স্বতন্ত্র জীবনধারা ও ঐতিহ্য চর্চার সাংবিধানিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অভয় সিংহ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দেশগুলির কাছে সহায়তা চান।
এ দিকে, রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালিসিস গ্রুপ (আরআরএজি)-এর দাবি, গত ১ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাই ও রাউজান এবং ফিরোজপুর ও সিলেটে অন্তত ১৬ জন হিন্দুর বাড়িঘর, মন্দির ও সম্পদ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে সাতটি ঘটনা ঘটেছে গত এক সপ্তাহে। সংগঠনের পরিচালক সুহাস চাকমা বলেন, “হিন্দু ও বৌদ্ধদের ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের মিরসরাই ও রাউজানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর সবচেয়ে বেশি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)