ইরানে কবে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা, তা নিয়ে নানা মহলে চর্চা অব্যাহত। এরই মধ্যে জানা গিয়েছে, আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই বিশেষ উপদেষ্টা, অর্থাৎ তাঁর জামাই জ্যারেড কুশনার ও পশ্চিম এশিয়ার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সিদ্ধান্ত মতোই আকাশপথে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা। যদিও ইরানের তরফে দাবি করা হয়েছে, আমেরিকান সামরিক অভিযানের জবাব দিতে সব রকম ভাবে প্রস্তুত তাদের সেনা।
বেরুটে থাকা আমেরিকান দূতাবাস থেকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ সরকারি কর্মীদের সরিয়ে নিচ্ছে ট্রাম্প-সরকার। এমন প্রস্তুতি যে আগামী দিনে যে ইরানে হামলা চালানোর পরিকল্পনারই ইঙ্গিত, সে রকমই মনে করা হচ্ছে। যদিও আজ ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্তা একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, ইরানের উপরে যদি হামলা চালাতেই হয়, তা হলে তা কবে ও কখন, সেটা নির্ভর করবে ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের আলোচনার উপরে। তবে ট্রাম্প যখন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ, তখন জানা গিয়েছে, ব্রিটেন ও সাইপ্রাসের বায়ুসেনার ঘাঁটি থেকে ২৮টি আমেরিকান সামরিক বিমান ওঠানামা করেছে। এ-ও জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র গত সপ্তাহেই ৭৬টি আমেরিকান ট্যাঙ্কার বিমান ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ায় ওঠানামা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়া জুড়ে আমেরিকার এই সামরিক উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্লেষকরা এ-ও মনে করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা করতে বহু দশক ধরে আমেরিকাকে উস্কানি দিচ্ছে ইজ়রায়েল। তবে আমেরিকান সংবাদমাধ্যমগুলিতে এমন উস্কানির কোনও উল্লেখ নেই।
ইরানের উপরে আমেরিকান হামলার আশঙ্কা যখন বাড়ছে, তখন দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির হুঁশিয়ারি, আমেরিকার হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত তাদের দেশ। তিনি একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরানের সেনা সব সময়ে সতর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের সেনা নির্ভীক, ট্রিগারে তাদের আঙুল। যে কোনও আগ্রাসনের যোগ্য জবাব দিতে তারা সব সময়ে প্রস্তুত।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)