ঘরভর্তি রাষ্ট্রনেতাদের সামনে পৌঁছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ‘আমিই বস্’। সেখানে ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ, ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও। কেন সকলের সামনে নিজেকে ‘বস্’ বলে ঘোষণা করলেন? অবশেষে নিজের সেই মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন ট্রাম্প। দাবি, আদৌ নিজেকে ‘বস্’ বলে প্রতিষ্ঠা করার কোনও উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। তিনি নিছক মজা করতে চেয়েছিলেন।
গত ১৫ থেকে ১৭ জুন ফ্রান্সের এভ্যাঁ-লে-ব্যাঁ শহরে জি৭ শীর্ষসম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। শেষ দিন বিশ্ব অর্থনীতির নিরাপত্তা বিষয়ক একটি অধিবেশনের আয়োজন করা হয়েছিল। অন্য রাষ্ট্রনেতারা আগে থেকেই সেখানে বসে ছিলেন। সব শেষে অধিবেশনস্থলে পৌঁছোন ট্রাম্প। নিজের আসনে বসতে বসতে বাকিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘আমিই বস্’’। এই মুহূর্তের ভিডিয়ো ভাইরাল হয়ে যায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিয়সের একটি অনুষ্ঠানে ওই ভিডিয়ো নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘‘আপনি ঢুকে বললেন আপনি বস্। ওঁদের (উপস্থিত রাষ্ট্রনেতাদের) মধ্যে কত জন সেটা মানবেন বলে আপনার মনে হয়?’’
আরও পড়ুন:
ট্রাম্প এর উত্তরে প্রথমে বলেন, ‘‘সকলেই।’’ তার পর তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘‘আমি একটু মজা করছিলাম। ওঁরা সকলে বসেছিলেন, আমি ঘরে ঢুকলাম। তাই বলেছি। ওঁরা সকলেই সুপরিচিত, জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। নিজেদের দেশের প্রধান। আমি ঢুকে ওঁদের দিকে তাকিয়ে বলেছি, আমি বস্। সেটা মজা করেই বলেছি। কিন্তু এটা গোটা বিশ্বে এ ভাবে ছড়িয়ে পড়ল, ভাবতেই পারছি না। আমি বস্ হতে চাইনি।’’ ট্রাম্পের ‘বস্’ মন্তব্যের জবাবেই ফ্রান্সের মাক্রোঁ তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, ‘‘আপনি কেমন আছেন?’’ ট্রাম্প জবাবে বলেন, ‘‘ভাল আছি। ধন্যবাদ।’’
ইরানের সঙ্গে আমেরিকা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার পর ট্রাম্পের নীতিকে সমর্থন করেনি ইউরোপের দেশগুলি। ট্রাম্প হরমুজ় প্রণালী খোলার জন্য তাদের সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু সাহায্য করেনি কোনও দেশ। এমনকি, পশ্চিম এশিয়ায় অন্য কোনও দেশের সেনা ঘাঁটিও ট্রাম্পের সেনা ব্যবহার করতে পারেনি। ফলে ইউরোপের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কে শৈত্য এসেছিল। গত কয়েক দিনে তা ধীরে ধীরে কাটতে দেখা যাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে আমেরিকার প্রাথমিক সমঝোতা সফল হয়েছে। জি৭ বৈঠকেই ইউরোপ-আমেরিকার সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত ছিল। তার মধ্যে ট্রাম্পে ‘বস্’ মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। এ বার তার ব্যাখ্যা দিলেন খোদ প্রেসিডেন্ট।