Advertisement
E-Paper

যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের কাছে বার বার দরবার করছে দুই দেশ, প্রতি বারই প্রস্তাব খারিজ! আলোচনা চায় না হোয়াইট হাউস: রিপোর্ট

অন্তত দু’টি দেশ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। এর আগেও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার আয়োজন করেছে তারা। মূলত আমেরিকার অনাগ্রহেই এ বার তা সম্ভব হচ্ছে না।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬ ০৮:০৩
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে আপাতত আগ্রহী নন।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে আপাতত আগ্রহী নন। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে দরবার করেই চলেছে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশ। কিন্তু ট্রাম্প কোনও আলোচনাতেই আগ্রহী নন। তিনি কেবল ইরানের সামরিক পরিকাঠামো ধ্বংসে মনোনিবেশ করে রয়েছেন। তা নিয়েই প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে চলেছেন নিজের বাহিনীকে। একাধিক সূত্র উল্লেখ করে সংবাদসংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। দাবি, অন্তত দু’টি দেশ ইরান, আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের মধ্যস্থতা করতে চেয়ে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এক বার নয়, একাধিক বার। কিন্তু প্রতি বারই তাদের প্রস্তাব খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, ওমান এবং মিশর যুদ্ধবিরতির জন্য কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। এর আগেও আমেরিকা, ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক আলোচনার আয়োজন করেছে তারা। কিন্তু মূলত আমেরিকার অনাগ্রহের কারণেই এ বার কিছুতেই তা সম্ভব হচ্ছে না। ওমান বার বার হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাদের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ট্রাম্প আগ্রহী নন! এক সিনিয়র হোয়াইট হাউস আধিকারিক বলেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট এখন কোনও মধ্যস্থতায় আগ্রহী নন। আমরা আমাদের অভিযান চালিয়ে যাব। হয়তো মধ্যস্থতার জন্য কোনও এক দিন আসবে, কিন্তু সেটা এখন নয়।’’

মিশরের তরফেও মধ্যস্থতা এবং কূটনৈতিক পদ্ধতিতে সমস্যার সমাধানের জন্য একাধিক বার হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনটি নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে লাভ হয়নি। সূত্রের দাবি, যুদ্ধ পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে চলে না যায়, তার জন্য অন্য দেশগুলির সঙ্গেও মিশর কথা বলেছে। পশ্চিম এশিয়ার যে সমস্ত দেশে ইরান হামলা চালিয়েছে, তারা যাতে পাল্টা পদক্ষেপ না-করে, তা কিছুটা হলেও নিশ্চিত করতে পেরেছে মিশর। তবে এ বিষয়ে মিশর বা ওমানের বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনও মন্তব্য করতে চায়নি।

Advertisement

উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে দু’সপ্তাহ পেরিয়ে গিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার যৌথ বাহিনী ইরানে হামলা চালিয়েছিল। তাতে মৃত্যু হয় দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। এর পর ইরানও প্রত্যাঘাত শুরু করে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে। যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ইরানের নেতারা আলোচনায় বসতে চাইছেন। কিন্তু ‘অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে’। অর্থাৎ, আশু যুদ্ধবিরতির কোনও পরিকল্পনা যে তাঁর নেই, তা তখনই নিশ্চিত করে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

যুদ্ধবিরতিতে খুব একটা আগ্রহী নয় ইরানও। তাদের সঙ্গেও একাধিক দেশ যোগাযোগ করেছিল। তবে প্রথম থেকেই ইরানের অবস্থান স্পষ্ট। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে স্থায়ী ভাবে ইরানে হামলা চালানো বন্ধ করতে হবে এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই শর্ত না মানলে যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে আলোচনায় বসবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে তেহরান।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
সর্বশেষ
১৭ ঘণ্টা আগে
US Iran Conflict US Israel vs Iran Donald Trump
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy