Advertisement
E-Paper

আমেরিকার পতাকা নিয়ে বরফে হেঁটে চলেছে পেঙ্গুইন, পাশে ট্রাম্প! মিম পোস্ট করে আবার গ্রিনল্যান্ড দখলের বার্তা ট্রাম্পের

সমাজমাধ্যমে অনেকেই হোয়াইট হাউস এবং ট্রাম্পকে বিদ্রুপ করেছেন। অনেকেই মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, উত্তর মেরুতে পেঙ্গুইন থাকে না।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫৩
হোয়াইট হাউসের পোস্ট করা সেই মিম। পেঙ্গুইনের পাশে হেঁটে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসের পোস্ট করা সেই মিম। পেঙ্গুইনের পাশে হেঁটে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত।

গ্রিনল্যান্ড ‘দখল’ যে এখনও তাঁর পাখির চোখ, আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ বার সরকারি ভাবে কোনও বিবৃতি দেয়নি হোয়াইট হাউস। বদলে এআই দ্বারা নির্মিত একটি মিমের মাধ্যমে নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। বরফের উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে একটি পেঙ্গুইন। পাশে ট্রাম্প। পেঙ্গুইনের হাতে আমেরিকার জাতীয় পতাকা। এর আগে গ্রাফিক পোস্ট করে একই বার্তা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মিমটির জন্ম প্রায় দু’দশক আগে। ২০০৭ সালে একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেছিলেন ওয়ের্নার হারজ়গ— ‘এনকাউন্টার অ্যাট দ্য এন্ড অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’। সেই তথ্যচিত্রই হল মিমটির উৎস। তথ্যচিত্রে এক দৃশ্যে দেখা গিয়েছিল, একটি পেঙ্গুইন স্বজাতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একা একা হেঁটে চলেছে আন্টার্কটিকায়। গত কয়েক দশকে সেই পেঙ্গুইনকে কেউ ‘নিঃসঙ্গ’, কেউ ‘ধ্বংসবাদে বিশ্বাসী’ বলে বর্ণনা করেছেন। তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বহু মিম।

সেই ছবিকে ব্যবহার করেই এ বার গ্রিনল্যান্ড ‘দখলের’ বার্তা দিলেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের পোস্ট করা ছবিতে দেখা গিয়েছে, বরফের উপর দিয়ে আমেরিকার পতাকা হাতে এগিয়ে যাচ্ছে পেঙ্গুইন। পাশে হাঁটছেন ট্রাম্প। সামনে বরফঢাকা পাহাড়। সে দিকেই হেঁটে চলেছেন দু’জন। ক্যাপশনে লেখা, ‘আলিঙ্গন করো পেঙ্গুইন’-কে।

তথ্যচিত্রের দৃশ্যে পেঙ্গুইনটি আদৌ গ্রিনল্যান্ডের দিকে হেঁটে যায়নি। সেটি আন্টার্কটিকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। কিন্তু হোয়াইট হাউসের মিমে স্পষ্ট, পেঙ্গুইনের পাশে ট্রাম্প হেঁটে চলেছেন গ্রিনল্যান্ডের বরফঢাকা পাহাড়ের উদ্দেশে। সেই নিয়ে সমাজমাধ্যমে অনেকেই হোয়াইট হাউস এবং ট্রাম্পকে বিদ্রুপ করেছেন। অনেকেই মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, উত্তর মেরুতে পেঙ্গুইন থাকে না। পেঙ্গুইন থাকে পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুতে। সেই তালিকায় রয়েছেন ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর সাংবাদিক পিপা ক্রেরার।

দিন কয়েক আগে ট্রুথ সোশ্যালে প্রায় একই বার্তা দিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁর পোস্ট করা এআই নির্মিত ছবিতে দেখা গিয়েছিল, গ্রিনল্যান্ডে আমেরিকার পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ট্রাম্প। পাশে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স, মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। সামনে রয়েছে একটি কাঠের বোর্ড, যেখানে লেখা, ‘গ্রিনল্যান্ড – আমেরিকার ভূখণ্ড, প্রতিষ্ঠা ২০২৬’।

ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘ দিন ধরেই দাবি করে আসছে যে, আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য তাদের গ্রিনল্যান্ডের দখল নেওয়া প্রয়োজন। এর ফলে মেরু অঞ্চলও সুরক্ষিত থাকবে বলে দাবি হোয়াইট হাউসের। সেই দাবির কথা স্মরণ করে দিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন, কোনও দেশ যদি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমেরিকার দাবি না-মানে তবে তাদের উপর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

গ্রিনল্যান্ড ‘দখল’ নিয়ে তাঁর মতের শরিক না-হওয়ায় ইতিমধ্যেই ইউরোপের আটটি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকির বিষয়টি মানতেই চাইছে না ইউরোপের দেশগুলি। ট্রাম্পের বক্তব্য, গ্রিনল্যান্ডকে সুরক্ষিত রাখতে পারে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র আমেরিকাই।

ইউরোপের দেশগুলির আশঙ্কা, আমেরিকার ফৌজ গ্রিনল্যান্ড দখল করতে পারে। কিন্তু বুধবার ইউরোপের দেশ সুইৎজ়ারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)-এ সেই সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‘মানুষ ভেবেছিলেন আমি বলপ্রয়োগ করব! কিন্তু আমাকে বলপ্রয়োগ করতে হবে না। আমি বলপ্রয়োগ করতে চাই না। আমি বলপ্রয়োগ করব না।’’ কিন্তু সেই সঙ্গেই তাঁর সতর্কবার্তা— ‘‘আমেরিকা ছাড়া অন্য কোনও দেশ ডেনমার্ক নিয়ন্ত্রিত ওই ভূখণ্ড (গ্রিনল্যান্ড) সুরক্ষিত রাখতে পারবে না।’’ এ বার আবার সেই গ্রিনল্যান্ড নিয়েই পোস্ট দিলেন ট্রাম্প।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy