পাকিস্তানের কথাতেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে আমেরিকা। চিন থেকে ফেরার পথে এমনটাই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে তিনি রাজি ছিলেন না। তাঁর তেমন ইচ্ছাও ছিল না। তবে পাকিস্তানের কথা ফেলতে পারেননি। পাক সেনাপ্রধান এবং প্রধানমন্ত্রীকে আরও এক বার প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সঙ্গে বৈঠক করতে সে দেশে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। ইরান সমস্যা নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সেখান থেকে ফেরার বিমানে ওঠার আগে যুদ্ধবিরতি সম্পর্কে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমরা যুদ্ধবিরতি করেছি অন্য দেশগুলির অনুরোধে। আমার ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু আমরা এটা পাকিস্তানের জন্য করেছি, ওদের কথা ফেলতে পারিনি।’’ পাক শীর্ষনেতাদের প্রশংসা করে এর পর ট্রাম্প বলেন, ‘‘ওরা দারুণ মানুষ! ওদের ফিল্ড মার্শাল এবং প্রধানমন্ত্রী দারুণ মানুষ।’’
আরও পড়ুন:
তেহরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র কোনও ভাবেই মেনে নেবেন না বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, বছরের পর বছর ধরে ইউরেনিয়াম ভান্ডার ইরান যে ভাবে সমৃদ্ধ করেছে, তা-ও ধ্বংস করে দিতে হবে। এই শর্ত না-মানলে আমেরিকার সঙ্গে তাদের সংঘাতের বিরাম নেই। সম্প্রতি ইরানের দেওয়া একটি প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। জানিয়েছেন, প্রস্তাবের প্রথম লাইন পড়েই তিনি তা ছুড়ে ফেলে দেন। ইরানের ওই প্রস্তাব মেনে নেওয়ার মতো ছিল না বলে দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের। তাঁর কথায়, ‘‘আমি প্রস্তাবের দিকে তাকালাম, প্রথম লাইনটা ভাল লাগল না। ছুড়ে ফেলে দিলাম।’’
গত ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকা-ইরানের সংঘাত চলছে। দীর্ঘ দিন ধরে পশ্চিম এশিয়া উত্তপ্ত। মার্কিন ও ইজ়রায়েলি বাহিনী ইরান আক্রমণ করার পর প্রতিশোধ নিতে পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে হামলা চালায় তেহরান। পরে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়েছে, কিন্তু সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান আসেনি। আমেরিকা এবং ইরান— উভয়েই নিজ নিজ অবস্থানে অনড়। এই পরিস্থিতিতে দু’পক্ষের মধ্যস্থতায় এগিয়ে গিয়েছে ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান। একাধিক বার পাক প্রতিনিধিরা দুই দেশের সঙ্গে কথা বলেছে। ইসলামাবাদে আয়োজিত প্রথম সমঝোতার বৈঠকে ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয়েছিল ইরান ও আমেরিকার নেতাদের। কিন্তু বৈঠক ব্যর্থ হয়।