ইরানকে নিয়ে কী কী পরিকল্পনা করে রেখেছে আমেরিকা, তা পশ্চিম এশিয়ার ‘বন্ধু’দেশগুলিকেও বলা হয়নি। কারও সঙ্গেই সে সব পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়নি। একমাত্র আমেরিকাই জানে, তারা ইরান নিয়ে কী ভাবছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ়কে একটি সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আরও এক বার মনে করিয়ে দিয়েছেন, ইরানের দিকে বিরাট মার্কিন নৌবহর এগোচ্ছে। তবে দুই দেশের মধ্যে এখনও কূটনৈতিক আলোচনা চলছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।
ইরানের পারমাণবিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরেই সরব আমেরিকা। কিছু দিন আগে সে দেশে কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে পথে নেমেছিল মানুষ। অভিযোগ, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের নির্দেশে কঠোর ভাবে বিদ্রোহীদের দমন করা হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে কয়েক হাজার মানুষের। এই পরিস্থিতিতে ইরানে সামরিক অভিযান আমেরিকা চালাবে কি না, বার বার সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন ট্রাম্প। একাধিক হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। শনিবার ইরান সম্বন্ধে প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘‘ওরা আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। আমরা কিছু করতে পারি কি না দেখি। না হলে যা হবে দেখা যাবে। আমাদের বিরাট নৌবহর ও দিকেই এগোচ্ছে। ইরান সমঝোতা করছে।’’
আরও পড়ুন:
ইরানে কী সামরিক পরিকল্পনা রয়েছে আমেরিকার? তা নিয়ে পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন ঘনিষ্ঠ দেশগুলির কী অভিমত? আমেরিকা ইরানে কোনও সামরিক পদক্ষেপ করলে ‘বন্ধু’ দেশগুলিকে কি ট্রাম্প পাশে পাবেন? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘‘আমার তো আমাদের পরিকল্পনার কথা ওদের (বন্ধু দেশগুলিকে) বলে দিতে পারি না। যদি এখানে আপনাকে আমাদের পরিকল্পনা বলে দিই, তা হলে যা হবে, ওদের বলে দিলে তার চেয়েও খারাপ কিছু হতে পারে।’’
বিমানবাহী যুদ্ধপোত ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের নেতৃত্বে নৌবহর ইরানে পাঠিয়েছে আমেরিকা। ট্রাম্প বার বার দাবি করেছেন যে, তিনি আশা করেন এই নৌবহর ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে হবে না তাঁকে। তবে সাবধানতা অবলম্বনের জন্য তিনি এই পদক্ষেপ করেছেন। আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে, মেনে নিয়েছে তেহরানও। সংবাদসংস্থা এএফপিকে তেহরানের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আমেরিকার সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার বিষয়ে তাঁরা সতর্ক। সমঝোতার আলোচনা চলছে। তবে ট্রাম্প ইরানে কোনও রকম হামলা চালালে তাকে যুদ্ধ হিসাবে দেখে সর্বাত্মক প্রত্যাঘাত করবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছে তেহরান।