Advertisement
E-Paper

ইরানের সেনা চাপে থাকা সত্ত্বেও হরমুজ় প্রণালীতে এখনও পিছিয়ে মার্কিন বাহিনী! ট্রাম্পের দাবি, হাতে যথেষ্ট অস্ত্র মজুত রয়েছে

ইরানের দু’টি ঘাঁটিতে বাঁধা তাদের সাতটি জাহাজ ধ্বংস হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে নৌবাহিনীর বহু পরিকাঠামো। তার পরেও পারস্য উপসাগরে ওত পেতে রয়েছে ইরানের ছোট জাহাজ, বিশেষত যাত্রিবাহী জাহাজ, যেগুলি আরও মারাত্মক হতে পারে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ ১৩:৩৯
হরমুজ় প্রণালী।

হরমুজ় প্রণালী। — ফাইল চিত্র।

আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হামলায় কিছুটা চাপে ইরানের সেনা। ধাক্কা খেয়েছে তাদের নৌবহর। তবু হরমুজ় প্রণালীতে মার্কিন সেনাকে ছেড়ে কথা বলছে না তারা। এমনটাই জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইম্‌সের একটি রিপোর্ট। অন্য দিকে, পশ্চিম এশিয়ায় এক সপ্তাহ ধরে সংঘাত চলার পর প্রশ্ন উঠেছিল, ইরানের প্রতিরোধের মুখে আমেরিকার হাতে যথেষ্ট অস্ত্র রয়েছে কি না। ট্রাম্প সেই সংশয় উড়িয়ে দিয়ে শুক্রবার জানান, তাঁদের কাছে ‘চমৎকার’ অস্ত্র রয়েছে।

গত শনিবার থেকে ইরানে হামলা চালাচ্ছে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার সেনা। অভিযানের শুরুতেই প্রাণ হারিয়েছেন তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই। উপগ্রহ থেকে মেলা তথ্য এবং বিভিন্ন ভিডিয়ো বিশ্লেষণ করে নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স জানিয়েছে, শুধু স্থলে নয়, সমুদ্রেও যথেষ্ট ধাক্কা খেয়েছে ইরানের বাহিনী। দু’টি ঘাঁটিতে বাঁধা তাদের সাতটি জাহাজ ধ্বংস হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে নৌবাহিনীর পরিকাঠামো। হরমুজ়ে মাটির নীচে থাকা নৌঘাঁটির প্রবেশপথও ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোদ্দা কথা, ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান নৌবাহিনীর এই হামলায় বড়সড় ক্ষতি হয়েছে, এমনটাই বলছে সংবাদমাধ্যম।

ইরানের দু’টি নৌবাহিনী রয়েছে। ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান নৌবাহিনী মূলত সাবেকি যুদ্ধজাহাজ পরিচালনা করে। সেগুলির বেশ কয়েকটি ইতিমধ্যে ধ্বংস করেছে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার বাহিনী। ইরানের দ্বিতীয় নৌবাহিনী চালায় ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর। তারা অসম যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী। তাদের ভান্ডারে রয়েছে বহু সংখ্যক স্পিড বোট, স্বয়ংক্রিয় নৌযান, যেগুলিকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা যথেষ্ট কঠিন। এই দ্বিতীয় বাহিনীই হরমুজ় প্রণালী এবং পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তার দায়িত্বে। তাদের কাছেই ক্রমাগত ধাক্কা খাচ্ছে আমেরিকার বাহিনী। ওয়াশিংটনের প্রশাসনিক আধিকারিক নিকোলাস কার্ল নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স-কে জানান, ইরানের সাধারণ নৌবাহিনীর জাহাজ ডুবিয়ে আমেরিকা অবশ্যই যুদ্ধে কিছুটা এগিয়ে গিয়েছে। তবে পারস্য উপসাগরে এখনও ওত পেতে রয়েছে ইরানের ছোট জাহাজ, বিশেষত যাত্রিবাহী জাহাজ, যেগুলি আরও মারাত্মক হতে পারে।

নিউ ইয়র্ক টাইম্‌সের রিপোর্টে দাবি, হরমুজ় প্রণালী, পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগরে এখন পর্যন্ত ১০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রমণ করেছে ইরানের দ্বিতীয় নৌবাহিনী। আক্রান্ত জাহাজগুলির কর্মীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলা হয়েছে ‘অজানা কোনও প্রোজেক্টাইল’ থেকে। মনে করা হচ্ছে, ড্রোনের মাধ্যমে বা ছোট কোনও ভেসেল থেকে সেই হামলা চালানো হয়েছিল। হামলাকারীকে ধরা যায়নি। আর সে কারণে কেশম দ্বীপ, তার ১৬ কিলোমিটার উত্তরে বান্দার আব্বাস, কোনারাক নৌঘাঁটি হামলায় বিধ্বস্ত হওয়ার পরেও হরমুজ় প্রণালীতে দাপট রয়ে গিয়েছে ইরানের। কোনারাকে ইরানের তিনটি যুদ্ধজাহাজও ডুবিয়ে দিয়েছে আমেরিকার বাহিনী। তার পরেও ইরান প্রতিরোধ গড়ে তুলছে।

এর মধ্যে ট্রাম্প দাবি করেছেন, আমেরিকার হাতে যথেষ্ট অস্ত্র রয়েছে। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাত জন প্রতিরক্ষা কন্ট্রাক্টরের সঙ্গে বৈঠকের পরে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওই সংস্থাগুলি অস্ত্রের জোগান বৃদ্ধি করতে সম্মত হয়েছে। তারা ‘চমৎকার অস্ত্র’ সরবরাহ করবে। সূত্রের খবর, জাহাজ ধ্বংসকারী আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির কথাই বলেছেন ট্রাম্প। তবে কত দিনে সেগুলি হাতে পাবে মার্কিন বাহিনী, তা এখনও স্পষ্ট নয় বলেই জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স।

Donald Trump
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy