৬০টিরও বেশি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের উপর ১০ শতাংশ এবং তার বেশি পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে আমেরিকার এই শুল্কযুদ্ধ শুরুর কারণে নানা মহলে সমালোচিত হচ্ছেন তিনি। কিন্তু সেই সব সমালোচনা তিনি গায়ে মাখতে নারাজ। বরং ট্রাম্প জানান, তাঁর শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত একদম ‘সঠিক’। শেয়ার বাজারের ‘রেকর্ড-ভাঙা’ লাভ এবং সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য অনুঘটকের কাজ করেছে শুল্ক আরোপের বিষয়, এমনই মনে করেন ট্রাম্প। তবে তিনি এ-ও আশঙ্কা করছেন, মার্কিন আদালত যদি তাঁর শুল্ক-সিদ্ধান্তের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে, তা অত্যন্ত হতাশাজনক হবে। সেই কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট টেনেছেন ১৯২৯ সালের প্রসঙ্গও।
কোনও দেশের উপর ১০ শতাংশ, কোনও কোনও দেশের উপর আবার ১৫-২০ শতাংশ, আবার ভারত, ব্রাজ়িলের মতো কিছু দেশ রয়েছে, যাদের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। তাঁর কণ্ঠে অতীতে বার বার ভারতকে ‘বন্ধু’ বলতে শোনা গিয়েছে। কিন্তু তার পরেও ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় ট্রাম্প সমালোচিত হচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, ট্রাম্প এ-ও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি শুল্ক নিয়ে আলোচনায় না-বসে ভারত, তবে তাদের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে কোনও কথা নয়!
সেই আবহে ট্রাম্প দাবি করলেন, আমেরিকার অর্থনৈতিক উন্নতির কথা ভেবেই তিনি শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই প্রসঙ্গে লেখেন, ‘‘শুল্কবৃদ্ধি শেয়ার বাজারে বিরাট ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। প্রায় প্রতি দিনই নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে।’’ তাঁর দাবি, শুল্ক আরোপের ফলে শত শত মার্কিন ডলার দেশের কোষাগারে ঢুকছে। তবে তিনি এ-ও সতর্ক করেছেন, যদি একটি ‘উগ্র বাম আদালত’ এই ব্যবস্থা বাতিল করে, তবে সেটি আবারও ১৯২৯ সালের মতো হবে, যা বড় হতাশার।
আরও পড়ুন:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুক্তি দেন, দেশের ‘সম্পদ, শক্তি এবং ক্ষমতা’ রক্ষার জন্য শুল্ক অপরিহার্য। আর এই বিষয়টি বিরোধীদের বোঝা উচিত। ট্রাম্প মনে করেন, শুল্কবৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে বিরোধীরা শুরুতেই চ্যালেঞ্জ করতে পারত। দেশের যখন অর্থনৈতিক লাভ অর্জন শুরু হয়েছে, তখন এমন কাজ করা একেবারেই উচিত নয়। তিনি এ-ও দাবি করেন, আমেরিকার ইতিহাসে তাঁর মতো কোনও প্রেসিডেন্টকে এত পরীক্ষা এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হয়নি। শুল্কযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে আমেরিকার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি নিজেকে তৈরি করেছেন বলেও জানান ট্রাম্প।
উল্লেখ্য, ১৯২৯ সালে মন্দা আঘাত হেনেছিল বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। ধস নেমেছিল আমেরিকার শেয়ার বাজারেও। টানা ১০ বছর পর্যন্ত সেই মন্দা চলেছিল। শুধু আমেরিকা নয়, বিশ্বের অনেক দেশকেই প্রভাবিত করেছিল সেই মন্দা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক কমিয়ে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২ ফেব্রুয়ারি নিজেই সমাজমাধ্যমে এই ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভারতের উপর শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে এনেছেন তিনি।
- ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদীই তাঁকে শুল্ক সমঝোতার জন্য অনুরোধ করেন বলে জানান ট্রাম্প। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, আমেরিকার কাছ থেকে আরও বেশি তেল কিনবে ভারত।
-
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি সার! ১৫ নয়, ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কই ধার্য করল মার্কিন সরকারি এজেন্সি, মঙ্গলবার থেকেই হল কার্যকর
-
১০ থেকে বেড়ে ১৫ শতাংশ! সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবার শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের
-
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য-সমঝোতায় বদল নেই, নিজের দেশের সুপ্রিম রায়ে ‘হতাশ’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
-
কোর্ট বেআইনি বলায় কি শুল্কের টাকা ফেরত দিতে হবে? ১০% নতুন শুল্ক আরোপ করে ঘুরপথে আয়ের ভাবনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের!
-
কবে থেকে কমছে ২৫% শুল্ক? জানাল আমেরিকা! রুশ তেল নিয়ে সিদ্ধান্ত দেশীয় সংস্থাগুলির দিকে ঠেলল মোদী সরকার