বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম ওরফে দাউদ খানের দুবাই থেকে করা ভিডিয়ো আসল! হাদি-হত্যা মামলার চার্জশিটে তেমনই জানাল বাংলাদেশ পুলিশ। তারা জানিয়েছে, ফয়সলের তিনটি ভিডিয়োবার্তা পর্যালোচনা করা হয়েছে। তা দেখে মনে হচ্ছে ভিডিয়োগুলি আসল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে বানানো নয়!
সম্প্রতি তিনটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে একই যুবককে বলতে শোনা গিয়েছে, তিনি নিজেকে ফয়সাল করিম মাসুদ বলে দাবি করেন। তাঁর বার্তা ছিল, ‘‘আপনারা হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমার জড়িত থাকার কথা জানেন। আসলে আমি হাদি হত্যার ঘটনার সঙ্গে কোনও ভাবেই জড়িত নই। এটি একটি চক্রান্ত। এই কারণে আমি দেশ ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য হয়েছি। দেশ ছেড়ে চলে এসেছি দুবাইতে। দুবাইয়ে আছি।” এই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার আগে বাংলাদেশ পুলিশ বার বার দাবি করেছে, ফয়সল এবং তাঁর সহযোগী সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়েছে। মেঘালয়ে রয়েছে বলেও দাবি করেছিল বাংলাদেশ পুলিশ। তবে এই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছিল, সেগুলি যাচাই করে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, ওই ভিডিয়োগুলি এআই দিয়ে তৈরি নয়। তা মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। তবে ফরেন্সিক রিপোর্ট এখনও আসেনি। ভিডিয়োগুলি আসল। যদিও তাঁর অবস্থান এখনও নিশ্চিত নয়।
মঙ্গলবার হাদির হত্যার চার্জশিট জমা পড়েছে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। সেই চার্জশিটে ১৭ জনকে অভিযুক্ত হিসাবে উল্লেখ করেছে তদন্তকারী সংস্থা ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ। কী কারণে, কার নির্দেশে হাদিকে খুন করা হয়েছে, তার উল্লেখ রয়েছে চার্জশিটে। ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান রাজনৈতিক উদ্দেশেই খুন করা হয়েছে হাদিকে। তাঁর কথায়, ‘‘ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে হাদি ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেন। রাজনৈতিক আঙ্গিকে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে উঠছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বক্তৃতা দিতেন। সেই সব রাজনৈতিক কারণে খুন করা হয় হাদিকে।’’
আরও পড়ুন:
পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তথা মিরপুরের প্রাক্তন ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর নির্দেশে খুন করা হয় হাদিকে! শফিকুল জানিয়েছেন, ফয়সল এবং তাঁর সহযোগী আলমগীর আদাবর এই মামলায় মূল অভিযুক্ত। তবে তিন জনই পলাতক।
বাংলাদেশে আসন্ন ভোটে লড়ার কথা ছিল হাদির। গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। তাঁকে সরকারি উদ্যোগে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সিঙ্গাপুরে। ছ’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। তার পর থেকে বাংলাদেশ জুড়ে অশান্তি শুরু হয়। হাদির হত্যাকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশের পুলিশ।