চিনের সাংহাইয়ের নামী এক হাসপাতালে ঢুকে এলোপাথাড়ি ছুরি চালালেন এক ব্যক্তি। কয়েক জন রোগীকে পণবন্দিও করলেন। ঘটনায় জখম হয়েছেন চার জন। কোভিডের কারণে চলতি বছরেও লকডাউন হয় বাণিজ্যনগরী সাংহাইতে। গত জুনে সেই লকডাউন ওঠার পর এই নিয়ে দ্বিতীয় বার প্রকাশ্যে ছুরি চলল এই শহরে। জিঙ্গান জেলায় ছুরি চালানোর জন্য সোমবার গ্রেফতার হন এক জন।
শনিবার সকালে সাংহাইয়ের রুজিন হাসপাতাল থেকে থানায় ফোন করে জানানো হয়, এক ব্যক্তি সেখানে ছুরি নিয়ে হামলা করেছেন। ওই হাসপাতালটি ১০০ বছরের পুরনো। নেটমাধ্যমে পোস্ট হওয়া এক ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, হাসপাতাল জুড়ে হুড়োহুড়ি। বহির্বিভাগের রোগীরা দৌড়াদৌড়ি করছেন। চিকিৎসকেরা রোগীদের হুইল চেয়ার ঠেলে ছুটছেন। এক চিকিৎসককে দেখা গিয়েছে, রোগীর শয্যা ঠেলতে ঠেলতে দৌড়চ্ছেন। অন্য একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, হাসপাতালের মেঝেতে পড়ে রয়েছে রক্ত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালের আট তলায় এক ব্যক্তি বেশ কয়েক জন রোগীকে পণবন্দি করেন। হুমকি দেন, পণবন্দিদের খুন করবেন। পুলিশ তাঁকে ধরতে পাল্টা গুলি চালায়। শেষ পর্যন্ত বাগে আনে অভিযুক্তকে। তাঁর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল। রুজিন হাসপাতাল পুলিশ ঘিরে রেখেছে। শনিবার বহির্বিভাগের সমস্ত রোগীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করা হয়েছে।
চিনের হাসপাতালে হিংসার ঘটনা নতুন নয়। সে দেশের হাসপাতালগুলোয় সক্রিয় দালাল চক্র। ফলে রোগীরা সঠিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হন। অনেক সময়েই পরিষেবার জন্য গুনতে হয় মোটা টাকা। এই নিয়ে বিক্ষোভ দেখান রোগী ও তাঁর পরিবার। অনেক সময় চিকিৎসককে মারধরও করেন। তবে হাসপাতালে এমন পণবন্দির ঘটনা বিরল।