E-Paper

৭১-এর গণহত্যার ন্যায়বিচারে ভারত বাংলাদেশের পাশে

ঘটনা হল, অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের সময় ক্রমশ বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছিল পাকিস্তান। পরবর্তীতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর চিনকে সঙ্গে রেখে ইসলামাবাদও বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার পথ ঘনিষ্ঠ করার বার্তা দেয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ০৮:৩৩

—প্রতীকী চিত্র।

বাংলাদেশকে পাশে নিয়ে পাকিস্তানকে নিশানা নয়াদিল্লি। সম্প্রতি বাংলাদেশের গণহত্যা দিবসে সে দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সেই অভিশপ্ত রাতে পাক ভূমিকার কথা তুলে ধরেছিলেন তাঁর বিবৃতিতে। বলেছিলেন, পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’র নামে বাংলাদেশের নিরস্ত্র স্বাধীনতাকামী মানুষের উপরে ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছিল। আজ সেই প্রসঙ্গে সরব হয়েছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জায়সওয়াল। তাঁর কথায়, “১৯৭১ সালে অপারেশন সার্চলাইট চলাকালীন পাকিস্তানের নৃশংসতা সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত। এই গণহত্যায় লক্ষ লক্ষ নিরীহ বাংলাদেশিদের পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছিল এবং নারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ভাবে যৌন অপরাধ ঘটানো হয়েছিল।’ তাঁর বক্তব্য, “পাক বাহিনীর সেই বর্বরতার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। ওই নৃশংসতা বিশ্ববাসীর বিবেককে নাড়া দিয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হল, পাকিস্তান আজও তাদের অপরাধের কথা অস্বীকার করে। আমরা ন্যায়বিচারের জন্য বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করি।”

ঘটনা হল, অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের সময় ক্রমশ বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছিল পাকিস্তান। পরবর্তীতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর চিনকে সঙ্গে রেখে ইসলামাবাদও বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার পথ ঘনিষ্ঠ করার বার্তা দেয়। কিন্তু তারেকের এই বিবৃতিতে স্পষ্ট, মুক্তিযুদ্ধের ভাষ্যকে হিমঘরে পাঠাতে নারাজ বিএনপি সরকার।

প্রসঙ্গত, গতকাল নয়াদিল্লি বাংলাদেশ হাইকমিশনের আয়োজিত সে দেশের ৫৬তম স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লা ও ভারতের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ — দু’জনেই দুই দেশের অনন্য ও বহুমাত্রিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও প্রয়োজনীয়তার উপরে জোর দিয়েছেন। হাইকমিশনার হামিদুল্লা যেমন মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, কীর্তিবর্ধনও জানান, বহুমুখী সম্পর্ককে গভীরতর করার জন্য নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে ভারত উন্মুখ। আজ রণধীরের কথায়, “বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সরকারের তরফে লোকসভার স্পিকারকে পাঠানো হয়েছিল। তিনি প্রধানমন্ত্রীর চিঠি নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে শুভেচ্ছার পাশাপাশি, আগামী দিনে ঢাকার সঙ্গে নয়াদিল্লির রূপরেখা কেমন হবে তার বিস্তারিত দিশা ছিল। দু’দেশের মধ্যে কথাবার্তা চলছে। বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শুধু মজবুত করাই নয়, আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া লক্ষ্য।”

সম্প্রতি পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের একটি মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিজ দেশের শিয়া সম্প্রদায়ভূক্ত মানুষকে ইরানে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছেন মুনির, এমনই অভিযোগ। আজ এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীরের বক্তব্য, “আমরা এই ধরনের খবর পড়েছি। পাকিস্তান ক্রমান্বয়ে শিয়া সম্প্রদায়-সহ তাদের দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। তাই এই ধরনের মন্তব্য কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত বহু দশক ধরে সে দেশে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা কমে আসা থেকেই প্রমাণিত হয় যে পাকিস্তানে রাষ্ট্রের হাতে কী ভাবে তাঁরা পীড়িত, অত্যাচারিত এবং অবহেলিত হয়েছেন।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

India-Bangladesh Relation India-Bangladesh

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy