Advertisement
E-Paper

হরমুজ়ে জাহাজ প্রতি ১৮ কোটি টাকা করে নিচ্ছে ইরান? দাবি তেহরানের সংসদ সদস্যের! অর্থ কি দিতে হয়েছে ভারতকেও?

ইরানের উপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রেখেছে পশ্চিমি দুনিয়া। যদি জাহাজ পরিবহণের জন্য ইরানকে সত্যিই টাকা দিতে হয়, তবে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধের কারণে বিপদে পড়তে হতে পারে যে কোনও দেশকে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ০৮:০৩
হরমুজ় প্রণালী পেরিয়ে গুজরাতের বন্দরে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ শিবালিক।

হরমুজ় প্রণালী পেরিয়ে গুজরাতের বন্দরে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ শিবালিক। ছবি: রয়টার্স।

হরমুজ় প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ পরিবহণের অনুমতির জন্য আলাদা করে টাকা তুলছে ইরান? সে দেশের এক সংসদ সদস্যের দাবি, এক-একটি জাহাজ হরমুজ় পেরোচ্ছে ২০ লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ১৮.৭৫ কোটি টাকা) মূল্য দিয়ে। এই অর্থ না দিলে কোনও জাহাজকে হরমুজ় প্রণালী পেরোনোর অনুমতিই দেওয়া হচ্ছে না! সম্প্রতি ইরানের একটি টিভি চ্যানেলে এ কথা জানিয়েছেন সে দেশের বিদেশনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান আলায়েদ্দিন বরৌজের্দি। ২০২৪ সাল থেকে তিনি ইরানের পার্লামেন্টেরও সদস্য।

ইরানের এই ২০ লক্ষ ডলারের দাবি সকল পণ্যবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হচ্ছে কি না, স্পষ্ট নয়। একাংশের দাবি, কিছু জাহাজ থেকে টাকা তোলা হচ্ছে। আলায়েদ্দিন নিজের বক্তব্যে বিষয়টি অবশ্য এর বেশি খোলসা করেননি। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে যুদ্ধের আবহে ভারতের দু’টি এলপিজিবাহী জাহাজ হরমুজ় পেরিয়ে দেশে চলে এসেছে। আরও জাহাজ পরিবহণের জন্য ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই ভারতের জাহাজগুলির জন্য হরমুজ়ের দরজা খুলেছে বলে সরকারি ভাবে দাবি করা হয়েছে। তবে আলায়েদ্দিনের মন্তব্যের পর ভারতকেও জাহাজের জন্য টাকা দিতে হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।

পণ্যবাহী জাহাজগুলি থেকে টাকা তোলার এই পদক্ষেপ ইরানের শক্তি এবং হরমুজ়ের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে, দাবি আলায়েদ্দিনের। তিনি বলেছেন, ‘‘যুদ্ধ চলছে। তার একটা খরচ আছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের এটা করতে হচ্ছে। হরমুজ় দিয়ে যাওয়া জাহাজের থেকে পরিবহণের খরচ নিতে হচ্ছে। এটা আমাদের শক্তির পরিচয়।’’ লন্ডন থেকে পরিচালিত ইরানের সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল আলায়েদ্দিনের মন্তব্য উল্লেখ করেছে।

উল্লেখ্য, যুদ্ধের কারণে ইরানের উপর একাধিক বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রেখেছে আমেরিকায়-সহ পশ্চিমি দুনিয়া। যদি জাহাজ পরিবহণের জন্য ইরানকে সত্যিই টাকা দিতে হয়, তবে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধের কারণে বিপদে পড়তে হতে পারে যে কোনও দেশকে। টাকা তোলা নিয়ে কোনও তরফেই সরকারি ভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরানের উপর হামলা চালায়। তাতে মৃত্যু হয় সে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। এর পরেই ইরান প্রত্যাঘাত শুরু করে। নিশানা করা হয় পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে সারা দেশের জ্বালানির এক তৃতীয়াংশ পরিবাহিত হয়। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বাধা সৃষ্টি করছে ইরান। হরমুজ়ের পশ্চিম প্রান্তে এখনও ২২টি ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ আটকে। তা নিয়ে কথাবার্তা চলছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অবশ্য দাবি করেছেন, শত্রু দেশ ছাড়া আর কারও জন্য হরমুজ়ে কোনও বাধা নেই।

Strait of Hormuz Iran US Israel vs Iran
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy