ইরানের নিশানায় ফের ইজ়রায়েল। রবিবার রাতে ইজ়রায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী। গত এপ্রিলে এই দুই দেশের মধ্যে যে সংঘর্ষবিরতি হয়েছিল, তার পর এই প্রথম হামলা চালানো হল। ইরান জানিয়েছে, লেবাননের রাজধানী বেইরুটে ইজ়রায়েলের আক্রমণের প্রতিবাদেই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। লেবাননে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লা ইজ়রায়েলের নিশানায় রয়েছে। প্রায়ই তাদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বাহিনী। ইরান পাল্টা জবাব দিল রবিবার।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবশ্য ইজ়রায়েলকে আঘাত করেনি। আকাশেই তা প্রতিহত করা হয়েছে। তেহরানের দাবি, ইজ়রায়েলের নাজ়ারেথের কাছে রামাত ডেভিড বায়ুসেনা ঘাঁটি নিশানা করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তারা। আবার ইজ়রায়েলের বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র তারা সঠিক সময়ে চিহ্নিত করে এবং নির্দিষ্ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে তা প্রতিহত করা হয়।
আরও পড়ুন:
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করেছিল। তাতে নিহত হয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। এর পর পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে প্রত্যাঘাত শুরু করেছিল তেহরান। ইজ়রায়েলও তাদের নিশানায় ছিল। অন্য দিকে, লেবাননের হিজ়বুল্লা গোষ্ঠী ইরানের পক্ষে অস্ত্র ধরেছিল। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের এই আবহেই ইজ়রায়েল হিজ়বুল্লার বিরুদ্ধেও সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করে। নেতানিয়াহু জানিয়ে দেন, লেবানন থেকে এই গোষ্ঠীকে নির্মূল করে ছাড়বেন তাঁরা। তার পর থেকে বার বার রাজধানী বেইরুট ও সংলগ্ন এলাকায় ইজ়রায়েলের বোমা আছড়়ে পড়েছে। প্রাণ গিয়েছে বহু সাধারণ নাগরিকেরও। এই পরিস্থিতি আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শান্তি স্থাপনের জন্য সমঝোতার আলোচনা শুরু হয়। গত এপ্রিলে সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয় দুই পক্ষ।
ইরান প্রথম থেকেই দাবি করে এসেছে, সমঝোতা সফল করতে গেলে লেবাননে ইজ়রায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। সেই মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক বার কথাও বলেছেন নেতানিয়াহুর সঙ্গে। কিন্তু ইজ়রায়েল ফের রবিবার হামলা চালায় বেইরুটে। তারই জবাব দিল ইরান। লেবাননে হামলার পরেই ইরানের সামরিক বাহিনী একটি বিবৃতিতে বলেছিল, ‘‘এই আগ্রাসনমূলক কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি হলে তার প্রতিক্রিয়া আরও জোরালো হবে। সমগ্র অঞ্চলের আমেরিকান এবং ইহুদিদের নিশানা করা হবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর রিপোর্টে দাবি, ইরান থেকে অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। এর ফলে ইজ়রায়েলের বিভিন্ন প্রান্তে সাইরেন বেজে ওঠে। দেশের উত্তর প্রান্তে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়। ইতিমধ্যে প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে নেতানিয়াহুর বাহিনীও। তাদের সামরিক মুখপাত্র বলেছেন, ‘‘ইরান ভয়ঙ্কর ভুল করল।’’ তবে এখনও ইজ়রায়েল কোনও প্রত্যাঘাত করেনি।