E-Paper

১০০ দিন পার, সমাহিত করা যায়নি আয়াতোল্লাকে

তেহরানের প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছিল, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে সমাহিত করার আগে খামেনেইয়ের মৃতদেহ নিয়ে একাধিক শহরে শোক সমাবেশের আয়োজন করা হবে। তবে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত সময়সীমা সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ ০৮:৩৯
আয়াতোল্লা আলি খামেনেই।

আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। —ফাইল চিত্র।

মৃত্যুর ১০০ দিন পেরিয়ে গিয়েছে, কিন্তু এখনও সমাহিত করা হয়নি ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় তিনি নিহত হন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তাঁকে ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে সমাহিত করা হবে। ওই হামলায় ইরানের বেশ কয়েক জন উচ্চপদস্থ সেনা আধিকারিকও নিহত হন। তাঁদের সসম্মানে সমাহিত করা হলেও তিন দশক ধরে ইরানের ক্ষমতায় থাকা আয়াতোল্লাকে সমাহিত করা হয়নি। এই বিলম্বে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এরই মধ্যে তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনেইকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

তেহরানের প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছিল, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে সমাহিত করার আগে খামেনেইয়ের মৃতদেহ নিয়ে একাধিক শহরে শোক সমাবেশের আয়োজন করা হবে। তবে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত সময়সীমা সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। শুধু তাই নয়, তাঁর মৃতদেহ কোথায়, কী অবস্থায় রয়েছে সে বিষয়েও কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ইরানের এক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং ক্ষমতা হস্তান্তর-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই বিলম্বের প্রধান কারণ। বাবা নিহত হওয়ার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি। ইরানি আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় বরাত জোরে বেঁচে যান মোজতবা। তাঁর মুখে গুরুতর চোট লাগে। চোট লাগে দুই পায়ে। সূত্রের আরও দাবি, আঘাতে তাঁর মুখ বিকৃত হয়ে গিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের ব্যাখ্যা, এক জন সর্বোচ্চ নেতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি রাজনৈতিক সমাবেশও। এই ধরনের সমাবেশে মোজতবা খামেনেইয়ের প্রকাশ্যে আসা নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে। এই দীর্ঘ বিলম্ব আলি খামেনেইয়ের মৃতদেহের বর্তমান অবস্থা নিয়েও জল্পনা উস্কে দিয়েছে। মৃতদেহটি কোথায় রয়েছে, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রস্তুতি কেন জটিল হয়ে উঠেছে, সে বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ কিছু জানাননি।

ইরানে ২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি আমেরিকান ড্রোন হামলায় নিহত হন কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি। ৪ থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত চলেছিল শোকযাত্রা। তাঁর মৃতদেহ প্রথমে ইরাক থেকে ইরানের আহভাজ়, মাশহাদ, তেহরান, কোম এবং শেষে কেরমানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। জড়ো হয়েছিলেন কয়েক লক্ষ নাগরিক। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ইরানি কর্তৃপক্ষ খামেনেইয়ের সমাধির জন্যও বিপুল উপস্থিতি প্রত্যাশা করছেন। কিন্তু নিরাপত্তা জনিত কারণে তাঁরা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রস্তুতি নিয়ে উঠতে পারেননি। বর্তমানে ইরানের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে জনসমক্ষে আনা হয়নি। প্রাক্তন নেতার জন্য একটি ঐতিহাসিক বিদায় অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও আয়োজন করা যায়নি। এখন আলি খামেনেইয়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং ক্ষমতা হস্তান্তরে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

US-Iran War Ayatollah Ali Khamenei

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy