Advertisement
E-Paper

আড়াই হাজার থেকে কমে এক হাজারে এসে ঠেকেছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-সংখ্যা: দাবি রিপোর্টে! সে কারণেই কি কৌশলে বদল?

সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্রভান্ডারে সংখ্যা কমে এলেও আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে লাগাতার যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান, তাতে এটা স্পষ্ট যে, এই সামরিক সংঘাত আরও দীর্ঘ হতে চলেছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ১২:৪২
ইজ়রায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জারি ইরানের। ছবি: রয়টার্স।

ইজ়রায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জারি ইরানের। ছবি: রয়টার্স।

পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাত শুরুর আগে ইরানের অস্ত্রভান্ডারে ২৫০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। কিন্তু সেই সংখ্যাটা বর্তমানে এক হাজারে নেমে এসেছে। ইজ়রায়েলের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক আলমা রিসার্চ সেন্টারের তথ্য উদ্ধৃত করে ‘দ্য টাইমস’-এর প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে। সে কারণেই কি অস্ত্র ব্যবহারে সংযমী হয়ে উঠেছে ইরান? জল্পনা জোরালো হতে শুরু করেছে। তবে পাশাপাশি এটাও দাবি করা হয়েছে, দ্রুত যাতে ক্ষেপণাস্ত্রের ভান্ডার পূর্ণ করা যায়, সেই প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছে তেহরান। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের পরিমাণ কমে আসার যে তথ্য জোরালো হতে শুরু করেছে, সেই তথ্যকে ভুয়ো বলে দাবি করেছে ইরানের সংবাদামাধ্যমগুলি। বরং ইরান যে এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘ দিন চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে, ইরান সেনার এক মুখপাত্রের মন্তব্যকে উদ্ধৃত করে সেই দাবি করা হয়েছে।

বেশ কয়েকটি সূত্র আবার দাবি করছে, চার সপ্তাহ ধরে ইরান যে ভাবে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান জারি রেখেছে, তাতে মনে করা হচ্ছে, তাদের অস্ত্রভান্ডারে যদি টানও পড়ে তা হলে, সেই ঘাটতি মেটানোর কাজ তারা পাশাপাশি জারি রেখেছে। প্রথম দিকে যে ভাবে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, এ বার অস্ত্র প্রয়োগেও অন্য কৌশল নিতে শুরু করেছে তারা। ‘দ্য টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলমা রিসার্চ সেন্টারের তথ্য বলছে, গত বছরে ১২ দিনব্যাপী আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে যে সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছিল ইরান, সেই সময়েই তাদের অস্ত্রভান্ডারে ১৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। কিন্তু গত আট মাসে আরও ১০০০ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করেছে তারা। ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ইরানের সেনা এবং শিল্প ক্ষেত্রে যদি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল বোমাবর্ষণও করে, তা হলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতাকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারবে না।

ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সংঘাতের দিন যত এগোচ্ছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের হার একটু মন্থর হয়েছে। সংঘাতের শুরুর দিকে দিনে ১২টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। কিন্তু সেই সংখ্যা এখন দশে এসে ঠেকেছে। কারণ, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল মূলত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কেন্দ্রগুলি লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে যাতে, ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণের কাজ তারা চালিয়ে যেতে না পারে।

তবে অন্য দিকে সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্রভান্ডারে সংখ্যা কমে এলেও আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে লাগাতার যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান, তাতে এটা স্পষ্ট যে, এই সামরিক সংঘাত আরও দীর্ঘ হতে চলেছে। মঙ্গলবারই ইজ়রায়েলের তেল আভিভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে ‘দ্য টাইমস’-এর প্রতিবেদন বলছে, ইরান এখন ‘ক্লাস্টার’ অস্ত্রের প্রয়োগ করছে। যে সমরাস্ত্র বিশাল এলাকা জুড়ে ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে যেমন নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত হানা যায়, ‘ক্লাস্টার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাছেও সেগুলিকে আটকানো বা ধ্বংস করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে। মাঝ-আকাশে এই ক্ষেপণাস্ত্র থেকে বিস্ফোরক আলাদা হওয়ার আগেই ধ্বংস করতে হবে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। না হলে এর ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে।

Missiles
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy