ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কার্যত স্থগিত রেখে আলোচনায় বসার ইঙ্গিত দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু কোন পরিস্থিতিতে আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নিল, তা নিয়ে এখনও নানা মহলে কৌতূহল রয়েছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্স গোয়েন্দা সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুই প্রকারান্তরে ট্রাম্পকে সামরিক অভিযান শুরু করার বার্তা দিয়েছিলেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা সামরিক অভিযান শুরু করার আগে (প্রতিবেদন অনুসারে ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে) নেতানিয়াহু কথা বলেছিলেন ট্রাম্পের সঙ্গে। কী কারণে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করা প্রয়োজন, তারও নাকি ব্যাখ্যা দেন নেতানিয়াহু। প্রতিবেদনে একটি নতুন গোয়েন্দা সূত্রকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই তাঁর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরে সেই বৈঠক এগিয়ে সকালে করা হয়। গোয়েন্দা সূত্র মারফত সেই খবর পেয়েই ট্রাম্পকে সামরিক অভিযান শুরুর বার্তা দেন নেতানিয়াহু। রয়টার্সের প্রতিবেদনে তেমনই দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বলেন, “খামেনেইকে হত্যা করার এর চেয়ে ভাল সুযোগ হয়তো আর মিলবে না।” এই অভিযান যে কৌশলগত দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে, তা-ও ট্রাম্পকে বোঝান নেতানিয়াহু।
প্রতিবেদনে এ-ও অবশ্য বলা হয়েছে যে, ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আগেই নিয়ে ফেলেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু কখন এবং কোন পরিস্থিতিতে তা শুরু করা হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত তখনও পর্যন্ত নেয়নি হোয়াইট হাউস। মনে করা হচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করার বিষয়ে ট্রাম্পকে ‘রাজি করিয়েছিলেন’ নেতানিয়াহুই। তা ছাড়া গোয়েন্দা রিপোর্টেও বলা হয়েছিল যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ‘দুর্বল’ অবস্থানে আছে। তার পরেই নেতানিয়াহুর পরামর্শে ট্রাম্প রাজি হয়ে যান বলে ওই প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প অবশ্য ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার দায় কার্যত মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথের উপরেই চাপিয়েছেন। সোমবার টেনেসিতে হেগসেথকে পাশে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “পিট, আমার মনে হয় তুমিই প্রথম কেউ, যে আমায় বলেছিল, ‘এ বার শুরু করুন। আপনি ওদের পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেবেন না।’”
সামরিক অভিযান শুরুর পরেই ট্রাম্প জানান, আয়াতোল্লা খামেনেই নিহত হয়েছেন। সামরিক অভিযান শুরুর কারণ হিসাবে সেই সময় হোয়াইট হাউসের তরফে বলা হয়েছিল যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষমতা নষ্ট করতে এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরি না-করার প্রতিশ্রুতি আদায় করতেই তাদের এই পদক্ষেপ। তার পর অবশ্য যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বদলাতে থাকে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসাবে পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন-ঘনিষ্ঠ দেশগুলিতে হামলা চালাতে থাকে ইরান। ইজ়রায়েলেও হামলা চালানো হয়। পণ্য পরিবহণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ করে দেয় ইরান। যার জেরে গোটা বিশ্বেই জ্বালানির জোগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
‘পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই’! যুদ্ধবিরতির শর্ত প্রকাশে দেরি নিয়ে প্রশ্নে মজাচ্ছলেই খোঁচা ভান্সের
-
হিজ়বুল্লার সঙ্গে ‘যুদ্ধবিরতি’ জানিয়েও ফের ইজ়রায়েলি হানা লেবাননে! শান্তিচুক্তিতে নারাজ নেতানিয়াহুর কৌশল কী?
-
সুইৎজ়ারল্যান্ডের পথে ট্রাম্পের দূত, ইরান থেকে যেতে পারেন বিদেশমন্ত্রী আরাঘচি, জল্পনায় শান্তি-বৈঠকের প্রথম দফা
-
সুইৎজ়ারল্যান্ডে পিছিয়ে গেল আমেরিকা-ইরানের বৈঠক! সফর হঠাৎ বাতিল করে দিলেন ভান্স, শান্তির পথে ফের বাধা?
-
দ্বন্দ্ব থামিয়ে সমঝোতার পথে আমেরিকা-ইরান! মধ্যস্থতাকারী হিসাবে রইল পাকিস্তানের নাম, কোন কোন শর্তে সন্ধি হল?