Advertisement
E-Paper

ট্রাম্পের কন্যাকে খুনের ছক! ইভাঙ্কার প্রাসাদের নকশাও জোগাড় করেন ইরানি বাহিনীতে প্রশিক্ষিত যুবক, দাবি রিপোর্টে

কেন ইভাঙ্কাকে খুন করতে চেয়েছিলেন সাদ? ২০২০ সালে মার্কিন হামলায় ইরাকের রাজধানী বাগদাদে নিহত হয়েছিলেন আইআরসিজির কুদ বাহিনীর প্রধান কাশেম সোলেইমানি। তার পরেই সাদ স্থির করেন, ট্রাম্পের পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করবেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ ১৮:১২
ইভাঙ্কা ট্রাম্প।

ইভাঙ্কা ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে খুনের ছক কষেছিলেন ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এক জঙ্গি। এমনটাই জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক পোস্ট। তাঁর ‘গুরু’কে খুনের প্রতিশোধ নিতেই পরিকল্পনা করেছিলেন মহম্মদ বাকের সাদ দাউদ আল-সাদি। দিন কয়েক আগে গ্রেফতার করা হয়েছে ৩২ বছরের ওই ইরাকি যুবককে। তাঁকে জেরার করে এই তথ্য মিলেছে বলে দাবি।

সূত্রকে উদ্ধৃত নিউ ইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, বেশ আটঘাট বেঁধেই নাকি ইভাঙ্কাকে খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন সাদ। ট্রাম্প-কন্যার বাড়ির নকশাও ছিল তাঁর কাছে। কিন্তু কেন ইভাঙ্কাকে খুন করতে চেয়েছিলেন সাদ? ২০২০ সালে মার্কিন হামলায় ইরাকের রাজধানী বাগদাদে নিহত হয়েছিলেন আইআরসিজির কুদ বাহিনীর প্রধান কাশেম সোলেইমানি। তার পরেই সাদ স্থির করেন, ট্রাম্পের পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করবেন।

ওয়াশিংটনে ইরাকের দূতাবাসের প্রাক্তন ডেপুটি মিলিটারি অ্যাটাশে এন্তিফাধ কানবার নিউ ইয়র্ক পোস্ট-কে বলেন, ‘‘কাশেমের হত্যার পরে সাদ সকলকে বলতে শুরু করেছিল, আমাদের ইভাঙ্কাকে খুন করা দরকার। ট্রাম্প যে ভাবে আমাদের ঘর পুড়িয়েছে, তেমন ওঁর ঘরেও আগুন দেওয়া দরকার।’’ তিনি আরও দাবি করেন, সাদের কাছে ইভাঙ্কার ফ্লরিডার বাড়ির নকশাও ছিল।

ফ্লরিডার সেই বাড়ির নকশা এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেই হুমকি দিয়েছিলেন সাদ। ২ কোটি ৪০ লক্ষ মার্কিন ডলারের সেই বাড়িতেই স্বামী জেরার্ড কুশনারের সঙ্গে থাকেন ইভাঙ্কা। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ২২৯ কোটি টাকা। ২০২১ সালের পোস্টে সাদ লিখেছিলেন, ‘‘আমেরিকানদের বলতে চাই, এই ছবিটি দেখুন। আপনাদের প্রাসাদ বা সিক্রেট সার্ভিস, কেউই বাঁচাতে পারবে না। আমরা এখন পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণ করছি। আমি বলে রাখছি, আমাদের প্রতিশোধ সময়ের অপেক্ষা।’’

১৫ মে তাঁকে তুরস্কে গ্রেফতার করা হয়। এর পরে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ইউরোপ, আমেরিকায় ১৮টি হামলা এবং হামলার চেষ্টার মামলা রয়েছে। ইহুদিদের প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানোরও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। গত এপ্রিলে লন্ডনে দুই ইহুদিকে কোপানো, তার আগে মার্চে আমস্টারডামে ব্যাঙ্ক অফ নিউ ইয়র্ক মেলনে বোমা ফেলার অভিযোগ উঠেছে। বেলজিয়ামে ইহুদিদের উপাসনালয়ে বোমা মারার দায়ও স্বীকার করেছিলেন সাদ। প্রসঙ্গত, শিল্পপতি কুশনারকে বিয়ের আগে ২০০৯ সালে ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন ট্রাম্প-কন্যা। ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার শাসনে কুশনার দূতের পদে নিযুক্ত হয়েছেন। ইরানের সঙ্গে আমেরিকার শান্তি সমঝোতায়ও যুক্ত রয়েছেন তিনি।

সূত্রের খবর, ইরানের আইআরজিসির পাশাপাশি কাতায়িব হিজ়বাল্লার হয়েও কাজ করেছিলেন সাদ। শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বাল্লা ইরাকের। তাদের জঙ্গি সংগঠনের তকমা দিয়েছিল আমেরিকা।

সাদের জন্ম ইরাকের বাগদাদে। তাঁর মা ইরাকের। বাবা আহমদ কাজ়েমি ইরানের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ছিলেন। খুব কম বয়সে সাদকে তেহরানে পাঠানো হয়েছিল। সেখানেই আইআরজিসির অধীনে তার প্রশিক্ষণ হয়েছিল। ইরানের ওই বাহিনী সরাসরি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার কাছে রিপোর্ট করে। ২০০৬ সালে সাদের বাবার মৃত্যু হয়েছে। সূত্রের খবর, তখনই সাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন নেতা সোলেইমানি। তাঁকে নিজের বাবার মতোই দেখতেন সাদ। তাই তাঁর মৃত্যুর পরেই ইভাঙ্কাকে খুনের ছক কষেছিলেন ধৃত।

Iran
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy