শেখ হাসিনার জমানায় ‘মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা’র কারণে রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি হারিয়েছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি (‘জামাত’ নামেই যা পরিচিত)। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেরে আওয়ামী লীগের সরকারের পতনের পরে সেই রাজনৈতিক শূন্যস্থান পূরণে অপ্রতিহত গতিতে এগোচ্ছে তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরে এ বার সে দেশের রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এবং হল সংসদ নির্বাচনে বড় জয় পেল জামাতের ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীরা।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানাচ্ছে, এ বার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোটে ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ নামে নতুন একটি মঞ্চ গড়ে ভোটে লড়তে নেমেছিলেন ইসলামি ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস), আটটি সম্পাদক এবং পাঁচটি সদস্যপদ-সহ শিক্ষার্থী সংসদের ২১টি পদের মধ্যে ১৬টিতেই জয় পেয়েছেন জামাত সমর্থিত ওই মঞ্চের প্রার্থীরা। অন্য দিকে, বিএনপির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, গণ অধিকার পরিষদের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ এবং আরও কয়েকটি ছোট ছাত্র সংগঠনের জোট ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ চারটি পদে জয় পেয়েছে। তিনটি সম্পাদকপদ ও একটি সদস্যপদ গিয়েছে এই প্যানেলের দখলে। একটি সদস্যপদ পেয়েছেন নির্দল প্রার্থী।
আরও পড়ুন:
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের নির্বাচন এবং জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট হবে। ‘মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি’ হিসাবে পরিচিত জামাত নির্বাচনে বোঝাপড়া করেছে বাংলাদেশের ছাত্র-যুবদের নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং সাতটি ইসলামপন্থী দল— ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সঙ্গে। তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এবং তার সহযোগী দলগুলি। সাধারণ নির্বাচনের আগে একের পর এক ছাত্রভোটে জামাতের ছাত্র সংগঠনের জয় তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।