ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমেরিকাকে টেনেছিল ইজ়রায়েল? এমন দাবি উড়িয়ে দিলেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত যে সব দাবি প্রকাশ্যে এসেছে, সব ক’টাকেই ‘ভুয়ো’ বলে জানালেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, নেতানিয়াহুর মতে, কখন কী করতে হবে, তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলে দিতে হয় না!
নেতানিয়াহু বলেন, ‘‘আমরা নাকি আমেরিকাকে যুদ্ধে টেনে এনেছি। এই গুজবটা ছড়ানো হচ্ছে। এটা শুধু গুজবই নয়, হাস্যকরও বটে। কেউ কি সত্যিই মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলে দিতে হয়, কী করতে হবে?’’ ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, ‘‘আমেরিকার জন্য যেটা ভাল, ট্রাম্প সেটাই করেন।’’
ইরান যুদ্ধে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের ‘সমন্বয়ের’ প্রশংসা করেছেন নেতানিয়াহু। তাঁর মতে, ‘‘আমরা দ্রুত গতিতে লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগিয়ে চলেছি।’’ নেতানিয়াহুর কথায়, ‘‘মার্কিন-ইজ়রায়েল যৌথ বিমান হামলার ২০ দিন পর ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির আর ক্ষমতা থাকবে না।’’
ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী আশাবাদী, যুদ্ধে তাঁরাই জিতবেন। নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে ইরান। তাঁর মতে, ‘‘ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন অস্ত্রাগার ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি আমরা তা ধ্বংস করব।’’ তবে নেতানিয়াহু তাঁর দাবির সপক্ষে কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেননি। যদিও ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বুঝিয়ে দেন, এখনই যুদ্ধ থামানোর কোনও লক্ষণ নেই। তাঁর দাবি, এই অভিযান ‘যত দিন প্রয়োজন, তত দিন চলবে’! নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, হরমুজ় প্রণালী ‘বন্ধ’ করে ইরান যে ভাবে বিশ্বকে ‘ব্ল্যাকমেল’ করার পথ নিয়েছে, তা কখনওই সফল হবে না।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, বিভিন্ন সময় তেহরান এই যুদ্ধের জন্য শুধু ইজ়রায়েলকেই দায়ী করে। শুধু ইরান নয়, আমেরিকার অন্দরেও এই নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। আমেরিকানদের একাংশ মনে করেন, এই যুদ্ধ আমেরিকার ‘স্বার্থবিরোধী’। ইজ়রায়েলের কথাতেই ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে আমেরিকা। দিন দুয়েক আগে মার্কিন প্রশাসনের সন্ত্রাসদমন কেন্দ্রের অধিকর্তা জো কেন্ট নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেন। এই ইস্তফার নেপথ্যে কারণ হিসাবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘ইরান আমাদের জন্য আসন্ন হুমকি ছিল না। এটা স্পষ্ট যে ইজ়রায়েলের চাপে আমরা যুদ্ধ শুরু করেছি।’’ সেই সমস্ত আলোচনার মধ্যেই নেতানিয়াহু জানালেন, তাঁরা কোনও ভাবেই আমেরিকাকে যুদ্ধে জড়াননি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
‘চুক্তি পছন্দ না হলে ইরানে ফের বোমা ফেলব’, যুদ্ধবিরতি চুক্তি সইয়ের দু’দিন আগে জি৭ শীর্ষবৈঠকে নয়া সুর ট্রাম্পের
-
আলো নিবিয়ে, ট্র্যাকার বন্ধ করে হরমুজ় অতিক্রম! ইরানি কায়দাতেই তেহরানের কোটি কোটি ব্যারেল তেল লুট করেছে আমেরিকা?
-
লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজ়রায়েল, মৃত অন্তত চার! ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিই কি সার? শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
-
শুরুতেই ভিন্ন সুর ইজ়রায়েলের, পরমাণু প্রকল্প, হরমুজ় ঘিরেও ধোঁয়াশা! স্বস্তির চেয়ে চ্যালেঞ্জই বেশি ট্রাম্প-ইরান শান্তিচুক্তিতে
-
সুবিধাবাদী নীতিতে সাপ-ব্যাঙ দু’পক্ষকেই ‘চুমু’ খেয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ! ‘আম-ছালা’ দুই-ই হারিয়ে এখন কাঁদছে ধনকুবের আরব রাষ্ট্র