মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বার বারই দাবি করেছেন, ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। যা গোটা বিশ্বের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। এই পরমাণু কর্মসূচি নিয়েই এ বার মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান (ইউনাইটেড স্টেটস ডিরেক্টর অফ ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স) তুলসি গবার্ড রিপোর্ট পেশ করেছেন। সেনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির কাছে পেশ করা সেই রিপোর্টে গবার্ড দাবি করেছেন, ২০২৫ সালে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে হামলা চালানোর পর থেকে তারা ফের সেই কর্মসূচি চালু করার কোনও চেষ্টা করেনি। গোয়েন্দাপ্রধান দাবি করেছেন, ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামে ইরানে যে অভিযান চালানো হয়েছিল, তাতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তার পর সেই কর্মসূচি দ্বিতীয় বার চালু করার কোনও গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়নি।
মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধানের এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছে। গোয়েন্দাপ্রধানের এই দাবি, ট্রাম্পের দাবি কমজোরি করে দিল বলে অনেকেই মনে করছেন। প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট লাগাতার দাবি করে গিয়েছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি আটকানোর জন্য সেনা অভিযান জরুরি। ঘটনাচক্রে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। যত সময় যাচ্ছে সেই সামরিক সংঘাত তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। যে পরমাণু কর্মসূচি আটকানোর দাবি তুলে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল একযোগে হামলা চালাচ্ছে, মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান গবার্ডের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, যদি ইরান পরমাণু কর্মসূচি গত বছরেই বন্ধ করে দিয়ে থাকে, তার পরেও কেন তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নামল আমেরিকা?
ইরান দীর্ঘ দিন ধরেই দাবি করে আসছে তারা কোনও পরমাণু কর্মসূচি চালাচ্ছে না। কিন্তু তার পরেও ট্রাম্প প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে বার বার আঙুল তুলেছে। ইরানের বিরুদ্ধে নানা রকম নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়। ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলেও বসে আমেরিকা। কিন্তু তাদের উপর নানা শর্ত চাপানো হয়। ইরান সেই শর্ত মানতে রাজি না হওয়ায় বৈঠক বার বার ভেস্তে গিয়েছে। তার পরই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নামে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। ঘটনাচক্রে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের রিপোর্ট এমন সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে, যখন পশ্চিম এশিয়ার সামরিক সংঘাতের তিন সপ্তাহ হচ্ছে। আর এখান থেকেই দেশের বিরোধী দল প্রশ্ন তুলেছে, এই রিপোর্ট আগে কেন প্রকাশ্যে আনা হল না।
প্রসঙ্গত, গত বছরের জুনে ইরানের বেশ কয়েকটি পরমাণুকেন্দ্রে হামলা চালায় আমেরিকা। ইরানের তিনটি পরমাণুকেন্দ্র ফোরডো, নাতান্জ় এবং ইসফাহানে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। ওই হামলার পরে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে সেই সময়েই একটি প্রাথমিক রিপোর্ট তৈরি করে ফেলেছিলেন আমেরিকার গোয়েন্দারা। ওই গোপন রিপোর্ট সম্পর্কে ওয়াকিবহাল একাধিক আধিকারিকের সূত্র উল্লেখ করে ‘নিউ ইয়র্ক টাইম্স’ তখন জানায়, হামলায় দু’টি পরমাণুকেন্দ্রের প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ভূগর্ভস্থ ভবনগুলিকে ধ্বংস করা যায়নি। প্রাথমিক ভাবে রিপোর্টে এমনটাই জানানো হয়েছে। আমেরিকার হামলার আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি মনে করছিল, ইরান যদি পরমাণু বোমা বানানোর জন্য খুব তাড়াহুড়ো করে, তা হলেও তিন মাস সময় লাগতে পারে। পরমাণুকেন্দ্রে হামলার পরে মার্কিন সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়, এই হামলায় ইরানের পরমাণু কর্মকাণ্ডকে পিছিয়ে দেওয়া গিয়েছে। তবে খুব বেশি সময়ের জন্য নয়। খুব বেশি হলে ছ’মাস পিছিয়ে দেওয়া গিয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি।