Advertisement
E-Paper

স্ত্রী ও ন’মাসের সন্তানের মৃত্যুতেও প্যারোল মেলেনি! জেল চত্বরেই প্রিয়জনদের দেহ শেষ বার স্পর্শ করলেন হাসিনার দলের নেতা

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট থেকে আত্মগোপনে ছিলেন জুয়েল। গত বছরের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তখন থেকেই বিভিন্ন মামলায় কারাগারে বন্দি আছেন তিনি। স্বামীর মুক্তির জন্য দীর্ঘ দিন ধরে দৌড়াদৌড়ি করছিলেন স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৬:৪৯
শনিবার বিকেলে স্ত্রী ও ন’মাসের সন্তানের মৃতদেহগুলি যশোর জেলা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

শনিবার বিকেলে স্ত্রী ও ন’মাসের সন্তানের মৃতদেহগুলি যশোর জেলা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত।

ন’মাসের সন্তানের দেহ মিলেছে মেঝেতে। স্ত্রীর দেহ উদ্ধার হয় ঝুলন্ত অবস্থায়। অভিযোগ, তার পর‌ও জেলবন্দি আওয়ামী লীগের ছাত্রশাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসানের প্যারোল মঞ্জুর হয়নি।

শনিবার বিকেলে তাঁদের মৃতদেহগুলি যশোর জেলা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই মৃত স্ত্রী ও পুত্রসন্তানের দেহ স্পর্শ করেন তিনি। কিছু ক্ষণ পরেই তাঁকে ফেরানো হয় কারাকক্ষে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট থেকে আত্মগোপনে ছিলেন জুয়েল। গত বছরের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তখন থেকেই বিভিন্ন মামলায় কারাগারে বন্দি আছেন তিনি। স্বামীর মুক্তির জন্য দীর্ঘ দিন ধরে দৌড়াদৌড়ি করছিলেন স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা। পরিবারের দাবি, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়‌ও স্বামীর মুক্তির জন্য চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন তিনি। তবে প্রতি বার‌ই বিফলে গিয়েছে চেষ্টা। এই নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে দাবি। শুক্রবার তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। মেলে তাঁর ন’মাসের পুত্রসন্তানের দেহ‌ও।

শনিবার বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি মহম্মদ মাসুম খান জানান, মৃতার বাবা রুহুল আমিন হাওলাদার সদর মডেল থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, “মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মামলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

শনিবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও সন্তানের মৃতদেহগুলি সাবেকডাঙা গ্রামে সুবর্ণার বাপেরবাড়িতে নেওয়া হয়। পরে বিকেলে তা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। জুয়েলকে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের মৃতদেহ দেখার সুযোগ দেন কর্তৃপক্ষ। পরে রাত ১১টায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

জুয়েলের এক আত্মীয়ের অভিযোগ, “স্ত্রী ও সন্তান মারা যাওয়ার পর আমরা কারাগারে যোগাযোগ করি। কিন্তু প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি।” যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ আবিদ আহমেদ বলেন, “মানবিক দিক বিবেচনা করে কারাগারের ভিতর বন্দি জুয়েলের স্ত্রী ও সন্তানদের মৃতদেহ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার অধিকার জেলা প্রশাসকের। তারা অনুমতি দিলে মুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু সেই চিঠি তাঁদের কাছে ছিল না। কোনও কারাবন্দির পরিবারের কারও মৃত্যু হলে মৃতদেহ কারাগারে আনা হলে আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে অনুমতি ছাড়াই দেখতে দিই।”

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কানিজ ও জুয়েল কয়েক বছর আগে বিয়ে করেন। সন্তানের জন্মের আগে থেকেই জুয়েল কারাগারে আছেন। নিহত সুবর্ণার ভাই মহম্মদ শুভ বলেন, “দীর্ঘ দিন ধরে স্বামী কারাবন্দি থাকায় অনেকটাই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল বোন। মানসিক ভাবে ভেঙেও পড়েছিল। তবে মৃত্যু পিছনে অন্য কোনও কারণও থাকতে পারে।” তিনি প্রশাসনের কাছে তদন্তের দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, “নিজের পুত্রকে একবারও কোলে নিতে পারলেন না জামাইবাবু। শেষ বারের জন্য যেন একটু দেখতে পারে, তাই নিয়ে গিয়েছিলাম।”

Bangladesh Bangladesh Chhatra League Deaths Prison
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy