ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের প্রত্যক্ষ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল তারা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দল বিএনপি এ বার আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসনেরও সিংহভাগ নিজেদের ঝুলিতে পুরতে চলেছে।
বাংলাদেশের সংসদীর বিধি অনুযায়ী সংরক্ষিত ৫০টি মহিলা আসনের ৩৬টি পাবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট। জামায়াত-ই-ইসলামী এবং এনসিপির জোট পাবে ১৩টি আসন। যদি নির্দল সাত জন সংসদ সদস্য জোটবদ্ধ হন, তবে তাঁরা একটি আসন পাবেন। জোটবদ্ধ না হলে তাঁদের ‘প্রাপ্য’ আসনটি সর্বাধিক নারী আসন পাওয়া বিএনপি পাবে। ২০০৪ সালের জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত নারী আসন) নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রতি ছ’টি আসনের জন্য একটি নারী আসন বণ্টন করা হয়।
ফেব্রুয়ারিতে ভোট হলেও চট্টগ্রাম-২ এবং চট্টগ্রাম-৪ আসনে ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে। একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন পিছিয়ে গিয়েছে। ফলে জাতীয় সংসদে বর্তমান আসন সংখ্যা ২৯৭। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ এবং তাদের জোটসঙ্গীরা তিনটি আসন পেয়েছে। বিএনপি জোটের মোট আসন ২১২। জামায়াত ৬৮ তাদের সহযোগী শরিক এনসিপি ৬, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২ এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসনে পেয়েছে। জামায়াত জোটের আসন সংখ্যা ৭৭। ইসলামী আন্দোলন ১টি এবং নির্দল প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়ী হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক দু’টি আসন থেকে জয়ী হয়ে বগুড়া-৬ ছেড়ে ঢাকা-১৭ থেকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। এতে বিএনপির এমপি সংখ্যা কমে হয়েছে ২০৮। কিন্তু সে দেশের সংসদীয় আইনের ৪(১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনও সদস্য একাধিক সাধারণ আসন থেকে নির্বাচিত হলে, তিনি যতগুলি কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হবেন, আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে মহিলা সংরক্ষিত আসনের হিসাব স্থির করার সময় সেই সবক’টি কেন্দ্রই গণনা করতে হবে। ফলে মহিলা সংরক্ষিত আসন বণ্টনে বগুড়া-৬ আসনকেও গণনা করা হবে। সংসদীয় আইনের ৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়নের জন্য আলোচনার ভিত্তিতে দল বা জোটওয়াড়ি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সরকারি ভাবে ভোটের ফল প্রকাশিত হয়েছিল। তাই ১৫ মার্চের মধ্যে এ সংক্রান্ত তালিকা চূড়ান্ত করতে হবে।