লেজ়ার গাইডেড বোমা কিংবা ‘এয়ার টু সারফেস’ ক্ষেপণাস্ত্র নয়। নয় অটোক্যানন থেকে ছুটে আসা ঝাঁক ঝাঁক গুলি। শুক্রবারের দুপুরে নমাজের আগে লেবাননের রাজধানী বেইরুটের আকাশ ছেয়ে গেল ইজ়রায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে ফেলা গোছা গোছা লিফলেটে!
সংবাদসংস্থা এএফপি জানাচ্ছে, ইজ়রায়েলি যুদ্ধবিমানের হানাদারির সময় প্রথমে চারটি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর পরে যুদ্ধবিমানগুলি থেকে ফেলা হতে থাকে লিফলেটের তাড়া। লেবাননের সরকারি টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, ইজ়রায়েলি যুদ্ধবিমানগুলি পশ্চিম বেইরুটের ভার্দুন, হামরা এবং আইন আল-ম্রেইস এলাকায় খুব নিচু দিয়ে উড়ে এসে অসংখ্য লিফলেট ফেলেছে। ওই লিফলেটগুলিতে লেবাননের জনগণের উদ্দেশে লেখা— ‘‘ইরানের দোসর হিজ়বুল্লাকে নিরস্ত্র করতে হবে। লেবানন কোন পথে হাঁটবে, সে সিদ্ধান্ত তোমাদের—অন্য কারও নয়।’’
এ ছাড়া লিফলেটে একটি কিউআর কোড রয়েছে। তলায় লেখা, ইজ়রায়েলি সামরিক গোয়েন্দা বাহিনী ‘ইউনিট-৫০৪’ লেবানন এবং তার জনগণের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় কাজ করছে। কেন সরাসরি লেবাননের জনগণের উদ্দেশে হিজ়বুল্লাকে নিরস্ত্র করার আবেদন জানাল তেল আভিভ? সামরিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ইরানের মদতপুষ্ট ওই শিয়া সশস্ত্র বাহিনী লেবাননের গণতান্ত্রিক রাজনীতিরও অন্যতম অংশীদার। হিজ়বুল্লার রাজনৈতিক শাখা ‘লয়ালিটি টু দ্য রেজ়িস্ট্যান্স’-এর পার্লামেন্ট সদস্যদের সমর্থনের উপরেই লেবাননের জোট সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ভর করে।
আরও পড়ুন:
এই পরিস্থিতিতে হিজ়বুল্লার মোকাবিলায় এ বার লেবাননের সুন্নি জনগোষ্ঠীকে পাশে পেতে সক্রিয় হয়েছে ইজ়রায়েল। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে ইজ়রায়েলি সেনার হামলার পরেই প্রত্যাঘাত করেছিল তেহরানের মদতপুষ্ট হিজ়বুল্লা। জবাবে রাজধানী বেইরুট-সহ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা শুরু করেছে তেল আভিভ। এর জেরে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। সেখানে মোতায়েন রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত-সহ ৩০টি দেশ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
১১:৪৩
ইরান যদি সমঝোতায় রাজি না হয়, পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে আমেরিকার? জানিয়ে দিলেন মার্কিন বিদেশসচিব রুবিয়ো -
০৮:৩১
ইরানের তিন দফা প্রস্তাব না-ও মানতে পারে ট্রাম্পের প্রশাসন! শান্তি আলোচনার পথের কাঁটা কি সেই পারমাণবিক কর্মকাণ্ডই? -
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মোকাবিলা করতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে ‘আয়রন ডোম’ দিচ্ছে ইজ়রায়েল! দাবি রিপোর্টে
-
পাকিস্তানে ফের বৈঠকের জন্য প্রস্তুত আমেরিকা-ইরান, তবে প্রথম বারের দুই নেতাই বাদ! কোন দেশ কাকে সরাল? কেন?
-
পাকিস্তানে যাচ্ছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী! আমেরিকার সঙ্গে শান্তিচুক্তি নিয়ে দ্বিতীয় পর্বের আলোচনার দরজা কি খুলবে?