Advertisement
E-Paper

খালেদা-পুত্রের বার্ষিক আয় কত, উৎস কী, কত টাকার সম্পত্তি রয়েছে তারেকের? হলফনামায় দেওয়া তথ্য প্রকাশ কমিশনের

বাংলাদেশে ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় থেকে প্রার্থীদের হলফনামা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। একটা সময় পর্যন্ত হলফনামায় প্রার্থীর বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা-সহ আট ধরনের তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। এখন ১০ ধরনের তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:০০
তারেক রহমান।

তারেক রহমান। —ফাইল চিত্র।

সদ্যপ্রয়াত খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের বার্ষিক আয় এবং সম্পত্তির পরিমাণ প্রকাশ্যে এল। বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে বগুড়া-৬ এবং ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তারেক। নিয়ম মেনেই বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের কাছে হলফনামা জমা দিয়েছেন বিএনপি-র এই শীর্ষনেতা। সম্প্রতি কমিশন তাদের ওয়েবসাইটে প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশ করেছে।

হলফনামায় উল্লিখিত তথ্য বিশ্লেষণ করে ‘প্রথম আলো’ জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তারেকের বার্ষিক আয় ৬ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা। তাঁর স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ১ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা (সব হিসাব বাংলাদেশি মুদ্রায়)। এর মধ্যে রয়েছে হাতে থাকা নগদ, ব্যাঙ্কে জমানো টাকা, শেয়ার, সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু, আসবাবপত্র। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে তারেকের দুই একরের কিছু বেশি অকৃষিযোগ্য জমি রয়েছে, যার মূল্য ৩ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা।

তারেকের ব্যাঙ্কে রাখা টাকার পরিমাণ ৩১ লক্ষ ৫৮ হাজার টাকার কিছু বেশি। তাঁর ৬৮ লক্ষ টাকার শেয়ার রয়েছে। ব্যাঙ্কে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রয়েছে ৯০ লক্ষ ২৪ হাজার টাকার কিছু বেশি। সঞ্চয়ী ও অন্যান্য আমানত রয়েছে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার। তারেকের কাছে থাকা আসবাবপত্রের মূল্য প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তারেকের নামে কোনও ঋণ নেই।

তারেকের স্ত্রী জুবাইদা রহমান পেশায় চিকিৎসক। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তাঁর আয় প্রায় ৩৫ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা। এই সময়ের মধ্যে তিনি প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা আয়কর হিসাবে জমা দিয়েছেন। আয়কর বিবরণী বা রিটার্নে তারেক-পত্নী ১ কোটি ৫ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার কিছু বেশি সম্পত্তি দেখিয়েছেন। তার মধ্যে ব্যাঙ্কে জমা এবং নগদ অর্থের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬৬ লক্ষ টাকা, স্থায়ী আমানতের পরিমাণ ৩৫ লক্ষ টাকা এবং সঞ্চয়ী আমানতের পরিমাণ ১৫ হাজার টাকা। জুবাইদার নামে কোনও স্থাবর সম্পত্তি নেই।

তারেকের বয়স এখন ৫৭। হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার জায়গায় তিনি উচ্চ মাধ্যমিক লিখেছেন। নিজের পেশা হিসাবে রাজনীতির কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর আয়ের উৎস মূলত ব্যাঙ্কে রাখা স্থায়ী আমানত এবং শেয়ার। তারেকের নামে বর্তমানে কোনও ফৌজদারি মামলা নেই। হলফনামায় মামলা সংক্রান্ত তথ্যের জায়গায় লেখা হয়েছে, ২০০৪ সাল থেকে তারেকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মোট ৭৭টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। খালেদা-পুত্র সবচেয়ে বেশি (৪২) মামলায় মুক্তি পেয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। ২০১৪ সালে একটি, ২০১৫ সালে তিনটি, ২০১৬ সালে আটটি, ২০১৭ সালে ছ’টি, ২০১৮ সালে চারটি, ২০১৯ সালে পাঁচটি, ২০২০ সালে একটি, ২০২১ সালে একটি এবং ২০২২ সালে পাঁচটি মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় তারেককে।

বাংলাদেশে ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় থেকে প্রার্থীদের হলফনামা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। একটা সময় পর্যন্ত হলফনামায় প্রার্থীর বয়স, পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আয়, সম্পদ, মামলার খতিয়ান-সহ আট ধরনের তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। এখন ১০ ধরনের তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যোগ করা হয়েছে আয়কর দেওয়ার সর্বশেষ তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপর নির্ভরশীলদের পেশার তালিকা।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনেই এক দফায় নির্বাচন হবে। ওই দিন একই সঙ্গে হবে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটও। কয়েকটি প্রাক্‌-নির্বাচনী জনমত সমীক্ষার ইঙ্গিত, নির্বাচনে বিএনপি প্রথম এবং জামাতের দ্বিতীয় স্থান অধিকার করার সম্ভাবনা বেশি। সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন তারেকই। হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী কট্টরপন্থী রাজনৈতিক শক্তি ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ (‘জামাত’ নামেই যা পরিচিত)-র প্রধান শফিকুর রহমানের আয় ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। তাঁর এই আয়ের উৎস কৃষিকাজ এবং দান।

Tarique Rahman Bangladesh Assets bnp
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy