Advertisement
E-Paper

আরও এক প্রণালীকে হরমুজ়ের মতো নিয়ন্ত্রণ করা হবে! এ বার নতুন করে হুঁশিয়ারি দিল ইরান, কী প্রভাব পড়তে পারে বাণিজ্যে

ইরানের দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় দুই-আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই প্রণালী। সরাসরি না হলেও এই সমুদ্রপথকে বকলমে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রয়েছে ইরানের।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ ০৯:৩০
লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরের সংযোগকারী বাব আল-মান্দেব প্রণালী।

লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরের সংযোগকারী বাব আল-মান্দেব প্রণালী। — ফাইল চিত্র।

হরমুজ় প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। এ বার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আরও এক গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ন্ত্রণের হুঁশিয়ারি দিল ইরান। গাজ়া এবং লেবাননের বিরুদ্ধে ইজ়রায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ না-হলে বাব আল-মান্দেব প্রণালীতেও হরমুজ়ের মতোই পদক্ষেপ করা হবে। সোমবার এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সামরিক বাহিনীর কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানি।

লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরের সংযোগকারী বাব আল-মান্দেব প্রণালী ইরানের থেকে বহু দূরে অবস্থিত। ইরানের দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় দুই-আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই প্রণালী। সরাসরি না হলেও এই সমুদ্রপথকে বকলমে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রয়েছে ইরানের। কারণ, বাব আল-মান্দেবের উত্তরপূর্ব দিকে রয়েছে ইয়েমেন। জলপথের উপরে ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া খুবই সহজ। ইয়েমেনে রয়েছে ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠী। বাব আল-মান্দেব নিয়ন্ত্রণের হুঁশিয়ারি দেওয়ার সময়েও সে দিকেই ইঙ্গিত করেছেন ইরানের সামরিক কমান্ডার।

কানি এ প্রসঙ্গে মন্তব্যের সময়ে ‘রেজিস্ট্যান্স অ্যাক্সিস’ (ইরান এবং তার মিত্র বাহিনী এই নামেই পরিচিত)-এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমেরিকার ছত্রছায়ায় থাকা ইজ়রায়েল যদি লেবানন এবং গাজ়ায় হামলা বন্ধ না করে, তবে ‘রেজিস্ট্যান্স অ্যাক্সিস’ উভয় যুদ্ধক্ষেত্রেই পদক্ষেপ করবে। বাব আল-মান্দেব প্রণালীতেও হরমুজ়ের মতোই পদক্ষেপ করা হবে।”

বাব আল-মান্দেব হল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক জলপথ। এর এক দিকে রয়েছে ইয়েমেন। অন্য দিকে রয়েছে আফ্রিকা মহাদেশের জিবুতি এবং ইরিট্রিয়া। প্রণালীটি দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ যথাক্রমে ১৩০ এবং ৪০ কিলোমিটার। তবে কোনও কোনও জায়গায় সংশ্লিষ্ট প্রণালীটি মাত্র ৩০-৩৩ কিলোমিটার চওড়া। কোথাও আবার আরও সংকীর্ণ, মাত্র ২৬-২৯ কিলোমিটার। বর্তমানে দিনে প্রায় ৮৮ লক্ষ ব্যারেল খনিজ তেল পরিবহণ হয় বাব আল-মান্দেবের করিডর দিয়ে। পাশাপাশি, ওই রুটে চলাচল করে বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১০-১২ শতাংশ পণ্য। এ-হেন গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ হলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জ্বালানির দাম অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরের মাঝের এই সমুদ্রপথটি ইউরোপ এবং এশিয়ার বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয়দের অনেকে এটিকে ‘দক্ষিণের প্রবেশদ্বার’ হিসাবেও ব্যাখ্যা করেন। এই জলপথ দিয়ে হজার হাজার পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। জাহাজগুলিকে এই প্রণালী এড়িয়ে চলতে হলে সেগুলিকে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে যাতায়াত করতে হবে। এর ফলে যাত্রাপথ দীর্ঘ হবে এবং জ্বালানি খরচও বৃদ্ধি পাবে।

ইরানের মদতপুষ্ট হুথি গোষ্ঠী ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের একটি ব়ড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে ড্রোন, বিস্ফোরক বোঝাই ছোট নৌকা নিয়ে তারা জাহাজে হামলা করেছে। তবে এই জলপথ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া খুব সহজ না-ও হতে পারে। কারণ, প্রণালীর অপর প্রান্তে রপয়েছে জিবুতি। সেখানে বিভিন্ন শক্তিধর রাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। আমেরিকার পাশাপাশি চিন, ফ্রান্স, জাপান এবং ইতালিরও সামরিক ঘাঁটি রয়েছে জিবুতিতে। বাণিজ্যপথকে নিরাপদ রাখার জন্য পর্যাপ্ত নৌবাহিনীও মোতায়েন রেখেছে তারা। উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে, গত ফেব্রুয়ারিতেও বাব আল-মান্দেব নিয়ন্ত্রণের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। তবে শেষ পর্যন্ত তেমন কোনও পদক্ষেপ তারা করেনি।

Strait of Hormuz US Iran
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy