যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথা আগেই প্রকাশ্যে এসেছে। এ বার ব্রিটেনের সেই প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। লন্ডন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন তিনি। যদিও পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে যান ম্যান্ডেলসন।
কয়েক দিন আগেই ব্রিটিশ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন এপস্টিন-কাণ্ডে নাম জড়ানো ব্রিটেনের প্রাক্তন যুবরাজ অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর। সে ক্ষেত্রেও যেমন গ্রেফতারির কারণ হিসাবে এপস্টিন-কাণ্ডের কথা উল্লেখ করেনি পুলিশ, এ বারও তা-ই। পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি পদে থেকে অসদাচরণ করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঠিক যেমনটা বলা হয়েছিল প্রাক্তন যুবরাজের গ্রেফতারির সময়েও।
ম্যান্ডেলসন অতীতে আমেরিকায় ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসাবে কর্মরত ছিলেন। গত বছরই এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথা প্রকাশ্যে আসে। তার পর পরই গত সেপ্টেম্বর মাসে ৭২ বছর বয়সি ম্যান্ডেলসনকে পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। ম্যান্ডেলসন এবং এপস্টিনের মধ্যে যোগাযোগের কথা প্রকাশ্যে আসায় বেশ অস্বস্তিতেই পড়তে হয় ব্রিটিশ সরকারকে। চলতি মাসের শুরুর দিকেই প্রাক্তন রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার।
এ সবের মধ্যেই সোমবারর ম্যান্ডেলসনকে গ্রেফতার করল লন্ডন পুলিশ। বস্তুত, অ্যান্ড্রুর মতো এ ক্ষেত্রেও ম্যান্ডেলসনের নামোল্লেখ করেনি পুলিশ। গ্রেফতারির পরে এক বিবৃতিতে লন্ডন পুলিশ জানিয়েছে, “সরকারি পদে থেকে অসদাচরণ করার সন্দেহে ৭২ বছর বয়সি একজনকে গ্রেফতার করেছেন আধিকারিকেরা।” অ্যান্ড্রুর গ্রেফতারির সময়েও এই একই বয়ান দিয়েছিল পুলিশ। কারণ, সে দেশের আইন অনুযায়ী, চার্জ গঠন হওয়ার আগে পর্যন্ত সেই অভিযুক্তের নাম প্রকাশ করতে পারে না পুলিশ।
আরও পড়ুন:
গত জানুয়ারি মাসে মার্কিন বিচারবিভাগীয় দফতর এপস্টিন সংক্রান্ত কিছু নথিপত্র প্রকাশ্যে আনে। তাতে ম্যান্ডেলসন এবং এপস্টিনের মধ্যে ইমেল চালাচালিও প্রকাশ্যে আসে। ওই ইমেলগুলি থেকেই উঠে আসে যে যতটা মনে করা হত, তার চেয়েও বেশি ঘনিষ্ঠতা ছিল উভয়ের। চলতি মাসের শুরুর দিকে ম্যান্ডেলসনের লন্ডন এবং ওয়েস্ট ইংল্যান্ডের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল পুলিশ।
সোমবার উত্তর লন্ডনের ক্যামডেনে প্রাক্তন রাষ্ট্রদূতের বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেখান থেকে একটি পুলিশের গাড়িতে করে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও পরে তিনি জামিনে ছাড়া পেয়ে যান। বিবিসি জানাচ্ছে, বেশি রাতের দিকে তাঁকে লন্ডনের বাড়িতে ফিরে যেতে দেখা গিয়েছে।