নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার ভোরে নিজের বাড়ি থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। একইসঙ্গে নেপালের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবারই নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন বলেন্দ্র শাহ। তার পর ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি। গ্রেফতার করা হল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে।
গত বছর তরুণ প্রজন্মের (জেন জ়ি) বিক্ষোভের জেরে নেপালে পতন হয়েছিল ওলি সরকারের। তার পর ভোট হয় ৫ মার্চ। ১৬৫টি আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বলেন্দ্রের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। তিনি শুক্রবার নেপালের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলে ভারত থেকেও যায় শুভেচ্ছাবার্তা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন্দ্রকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। গত বছরের জেন জ়ি বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগেই ওলি এবং তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হল।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার ভোরে ভক্তপুরের গুন্ডুর বাড়ি থেকে ওলিকে গ্রেফতার করেছে নেপাল পুলিশ। কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে বলেছেন, ‘‘ওঁদের সকালে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’’
কেন ক্ষমতায় এসেই পূর্বতন সরকারের প্রধানকে গ্রেফতার করালেন বলেন্দ্র? ওলি নিজে এই পদক্ষেপকে প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই গ্রেফতারি প্রতিহিংসামূলক। তবে আইনি পথে এর বিরুদ্ধে লড়াই তিনি চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন ধৃত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। যদিও নেপালের বর্তমান সরকার প্রতিহিংসার তত্ত্ব মানতে নারাজ। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং একে ‘প্রতিশ্রুতি পালন’ হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘‘আমরা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ওলি এবং বিদায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশকে নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এটা কারও বিরুদ্ধে কোনও প্রতিশোধ নয়। এটা কেবল ন্যায়বিচারের সূচনা। আমি মনে করি, এ বার এই দেশ নতুন দিশা পাবে।’’
নেপালের জেন জ়ি আন্দোলনে গত বছর প্রাণ হারিয়েছিলেন ৭০ জনেরও বেশি মানুষ। তাঁদের মধ্যে ১৯ জন ছিলেন তরুণ। প্রাথমিক ভাবে সমাজমাধ্যমের উপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হলেও কিছু দিনের মধ্যেই তা দেশে ক্রমবর্ধমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের রূপ নেয়। ওলির পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল তরুণ প্রজন্ম। তা থেকে বিস্তর হিংসাও ছড়িয়েছে। ওলি ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। তার পর থেকে নেপালের প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনা করেছেন। শুক্রবার প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পওডেল বলেন্দ্রকে শপথ পাঠ করান।