নেপালের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন বলেন্দ্র শাহ ওরফে বলেন। শুক্রবার দুপুর ১২টা ৩৪ মিনিটে (নেপালের স্থানীয় সময় অনুসারে) বলেনকে শপথবাক্য পাঠ করান নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পওডেল। দুপুর ২টো ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি।
নেপালের ৪৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পরেই বলেনকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “ভারত-নেপাল মৈত্রী এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আমি আপনার সঙ্গে কাজ করার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।” পড়শি দেশ চিনের তরফেও শুভেচ্ছাবার্তা গিয়েছে বলেনের কাছে। চিনের বিদেশ মন্ত্রক একটি বিবৃতি দিয়ে বলেনকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি জানিয়েছে, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় নেপালকে সাহায্য করবে বেজিং।
গত ৫ মার্চ নেপালে সাধারণ নির্বাচন হয়। সে দেশের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভস’-এর ২৭৫ আসনের সদস্যদের বাছতে জোড়া ব্যালটে ভোট দেন ভোটাররা। ১৬৫টি আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনে জয়ী হয় বলেনের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতিতে হওয়া নির্বাচনেও ৫৭টি আসনে জয়ী হয় আরএসপি।
আরও পড়ুন:
নেপালের পুরনো এবং পরিচিত দলগুলিকে ধরাশায়ী করে আরএসপি যে বিপুল ভোটে জয়ী হতে চলেছে, গণনার শুরু থেকেই তেমন ইঙ্গিত মিলছিল।
বলেনের জন্ম নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে হলেও তাঁর পরিবার আগে থাকত ভারত সীমান্তঘেঁষা তরাই অঞ্চলে। নেপালের এই অঞ্চল থেকে আগে কেউ কখনও প্রধানমন্ত্রী হননি। র্যাপ গায়ক হিসাবে নেপালের যুব সম্প্রদায়ের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা বলেন্দ্র ২০২২ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন। নির্দল প্রার্থী হিসাবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। ২০২৫ সালে তিনি রবি লামিছানের গড়া দল আরএসপি-তে যোগ দেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মেয়র পদে ইস্তফা দিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামেন তিনি। তাঁকে প্রধানমন্ত্রী মুখ করেই ভোটে লড়ে আরএসপি। বলেন ঝাপা-৬ আসনের প্রার্থী হিসাবে হারিয়ে দেন নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল-এর (ইউএমএল) প্রধান কেপি শর্মা ওলিকে।
শুক্রবার হিন্দু এবং বৌদ্ধ উপাচার মেনে শপথ নেন বলেন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে শাঁখ বাজানো হয়। উপস্থিত ছিলেন হিন্দু পুরোহিত এবং বৌদ্ধ লামারা। বলেনের পাশাপাশি নেপালের অন্য মন্ত্রীরাও শপথ নেন। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, নিজের হাতে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য এবং সরবরাহ দফতর রাখছেন বলেন। নেপালের নতুন বিদেশমন্ত্রী হয়েছেন শিশির খানাল। অর্থমন্ত্রী করা হয়েছে স্বর্ণিম ওয়াগলেকে।
যদিও ইতিহাস বলছে ৩৫ বছরের বলেন্দ্রর সামনে রয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ। নেপাল কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ১৯৯০ সাল থেকে দেশটিতে ৩২ বার সরকার পরিবর্তন হয়েছে। তা ছাড়া, কমিউনিস্ট পার্টি বা নেপালি কংগ্রেসের মতো পুরনো দলগুলির পোড় খাওয়া নেতারা দল ভাঙিয়ে সরকারের পতন ঘটাতে সিদ্ধহস্ত। অতীতে বার বার তার নজিরও দেখা গিয়েছে।