ইরানের আশপাশে পশ্চিম এশিয়ার উপকূল সংলগ্ন এলাকায় ‘চালকবিহীন ড্রোন বোট’ নামিয়েছে আমেরিকা। পেন্টাগনের সূত্র উল্লেখ করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। এর আগে ওই অঞ্চলে এমন কোনও অস্ত্র মোতায়েনের নজির ছিল না মার্কিন বাহিনীর। এই ড্রোনগুলি জলপথে ‘আত্মঘাতী’ হামলায় সক্ষম। ফলে ইরানে ডোনাল্ড ট্রাম্প তেমন কোনও হামলার পরিকল্পনা করছেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
‘ড্রোন বোট’ আসলে একটি স্পিডবোট। তাতে ড্রোন বসানো রয়েছে। এই বোটে চালকের প্রয়োজন হয় না। পেন্টাগন জানিয়েছে, আপাতত পশ্চিম এশিয়ায় নজরদারির কাজে ‘ড্রোন বোট’ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বোট হামলার কাজেও প্রয়োগ করা হতে পারে। বোটের ড্রোনে ক্ষেপণাস্ত্র বা বোমা ভরে তা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার জন্য পাঠানো যেতে পারে। রয়টার্স জানিয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরে চালকবিহীন জলযান পশ্চিম এশিয়া সংলগ্ন অংশে মোতায়েন করার চেষ্টা করছিল আমেরিকা। তবে একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। অবশেষে ‘ড্রোন বোট’-এর মাধ্যমে যুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন বাহিনীর সেই চেষ্টা সফল হল।
আরও পড়ুন:
বিশ্বের নানা প্রান্তে সাম্প্রতিক সংঘাতগুলিতে চালকবিহীন ড্রোনের গুরুত্ব বেড়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক হামলায় ইউক্রেন বিস্ফোরকবোঝাই চালকবিহীন জাহাজ ব্যবহার করেছে। পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের বিরুদ্ধেও এ বার সেই কৌশল নিচ্ছে আমেরিকা। রয়টার্স জানিয়েছে, আমেরিকা এখনও ব্যবহার না-করলেও ইরান কিন্তু চলতি সংঘর্ষেই অন্তত দু’বার সামুদ্রিক ড্রোন প্রয়োগ করে ফেলেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলের ট্যাঙ্কারগুলিকে সামুদ্রিক ড্রোনের মাধ্যমে নিশানা করেছে তারা।
পূর্ণদৈর্ঘ্যের জাহাজ বা রণতরী এবং ডুবোজাহাজের চেয়ে ‘ড্রোন বোট’ পরিচালনা করা অনেক সহজ। এতে খরচও তুলনামূলক কম। তা ছাড়া, চালক বা জাহাজকর্মী না থাকায় এই ধরনের বোটে নিজেদের সেনার প্রাণহানির সম্ভাবনাও কমে যায়। রয়টার্সের রিপোর্টে দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে আমেরিকা পশ্চিম এশিয়ায় চালকবিহীন নজরদারি বোটের বাহিনী গড়ে তুলতে চাইছিল। মূলত, প্রশান্ত মহাসাগরে চিনা নৌসেনার বাড়বাড়ন্তের বিপরীতে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলাই ছিল এর উদ্দেশ্য। তবে একাধিক প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছিল না। খরচের চিন্তাও ছিল। সূত্রের খবর, একাধিক পরীক্ষামূলক প্রয়োগও ব্যর্থ হয়। অবশেষে সেই পথে সাফল্য পেল ওয়াশিংটন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
০৮:৩৫
‘কোনও ভাবেই মানা যায় না’! ইরানের শান্তিপ্রস্তাব নাকচ করে বললেন ট্রাম্প, কী কী শর্তের কথা জানিয়েছিল তেহরান? -
হরমুজ় প্রণালীতে চলল গুলি! ইরান-আমেরিকার মধ্যে বাড়ল উত্তেজনা, সংঘর্ষবিরতিতে কি ইতি? কী বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
-
আমেরিকার হৃৎস্পন্দন বন্ধের হুঙ্কার, হরমুজ়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর ধ্বংসে ‘আত্মঘাতী তিমি’দের নামাচ্ছে ইরান!
-
ইরানের বন্দরে একের পর এক জাহাজে আগুন! লেবাননে মুহুর্মুহু হামলা ইজ়রায়েলের, পশ্চিম এশিয়ায় আবার সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে
-
‘আমেরিকার সামনে দুই বিকল্প, বলও ওদের কোর্টে’! যুদ্ধ নিয়ে প্রস্তাব ফেরাতেই ট্রাম্পকে বার্তা ইরানের, কোন দিকে ইঙ্গিত