Advertisement
E-Paper

ফের বাড়ল অশোধিত তেলের দাম, ট্রাম্পের ‘অবরোধ’-নীতির কারণে হরমুজ় প্রণালীতে কী কী সমস্যায় পড়বে জাহাজগুলি?

সম্প্রতি আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত খানিক প্রশমিত হওয়ায় তেলের বাজার খানিক চাঙ্গা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছিল। হরমুজ় পেরিয়ে তেল নিয়ে যাওয়া ট্যাঙ্কার বা জাহাজের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছিল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪৩

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বিশ্বের জ্বালানি বাজারে ফের অনিয়শ্চতার মেঘ। বিশ্বে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ করার কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তার পরেই হু হু করে বাড়়ছে অশোধিত তেলের দাম। অথচ গত শুক্রবার ইসলামাবাদে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শান্তিবৈঠক শুরু হওয়ার পর অশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছিল।

সোমবার আমেরিকার অশোধিত তেলের ব্যারেল পিছু দাম ৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০৪.২৪ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৯,৭৩৯.২৩ টাকা)। অশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুডের ব্যারেল প্রতি দাম ৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০২.২৯ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৯,৫৫৫.০৪ টাকা)। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এক ব্যারেল অশোধিত তেলের দাম ৭০ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৬৫৪০ টাকা)-এর আশপাশে ছিল। এক সময় তা বেড়ে ১১৯ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ১১,১৩১.৫৭ টাকা) পর্যন্তও হয়েছে।

সম্প্রতি আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত খানিক প্রশমিত হওয়ায় তেলের বাজার খানিক চাঙ্গা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছিল। হরমুজ় পেরিয়ে তেল নিয়ে যাওয়া ট্যাঙ্কার বা জাহাজের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছিল। কিন্তু শান্তিবৈঠক ভেস্তে যাওয়া এবং ট্রাম্পের হরমুজ় ‘অবরোধের’ ঘোষণায় আবার জ্বালানি সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Advertisement

ট্রাম্পের নির্দেশের পর আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড সমাজমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, হরমুজ়ে অবরোধ নিরপেক্ষ ভাবে সকল দেশের উপরেই প্রয়োগ করা হবে। যে সমস্ত জাহাজ ইরানের কোনও না কোনও বন্দরে প্রবেশ করার চেষ্টা করবে বা সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করবে, সেগুলিকেই আটকানো হবে। আরব উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের ইরানি বন্দরগুলির ক্ষেত্রেও এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে। তবে ইরানের বন্দরের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ না-রেখে যে জাহাজগুলি হরমুজ় দিয়ে যাতায়াত করবে, তাদের বাধা দেবে না মার্কিন সেনা। তাদের জলপথে যাতায়াতের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হবে না।

আংশিক অবরোধের কথা বলা হলেও তেল পরিবহণকারী সংস্থাগুলির আশঙ্কা কাটছে না। সংস্থাগুলির বক্তব্য, হরমুজ় আংশিক ভাবে অবরুদ্ধ হলেও জাহাজগুলি তুলনায় অনেক বেশি সময় নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছোবে। এর ফলে যেমন পরিবহণ খরচ বাড়বে, তেমন নিরাপত্তাগত ঝুঁকিও রয়েছে। কারণ ভূকৌশলগত কারণেই এই সংকীর্ণ প্রণালীর উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আলগা করতে চাইবে না ইরান। তারাও মার্কিন অবরোধের বিরুদ্ধে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ করলে পরিস্থিতি বেগতিক হবে।

সংবাদসংস্থা এপি-র প্রতিবেদন অনুসারে, আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হওয়ার পর হরমুজ় ধরে ৪০টি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কার গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ধীরে ধীরে হরমুজ় প্রণালীকে যুদ্ধ পূর্ববর্তী স্থিতাবস্থা ফিরছিল। কিন্তু ট্রাম্প এই প্রণালী অবরুদ্ধ করার কৌশল নিয়ে আদতে ইরানের তেল রফতানির রাস্তা বন্ধ করতে চাইছেন। ইরান প্রতি দিন গোটা বিশ্বে ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল রফতানি করে। এই তেলের সিংহভাগ হরমুজ় পেরিয়েই বিভিন্ন দেশে পৌঁছোয়। এই বিপুল পরিমাণ তেল রফতানি বন্ধ হয়ে গেলে, স্বাভাবিক ভাবেই বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহ মার খাবে। ফলত চড়চড় করে বাড়বে অশোধিত তেলের দাম। সে ক্ষেত্রে ফের ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম।

Iran US Donald Trump Strait of Hormuz Oil Price
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy