বিশ্বের জ্বালানি বাজারে ফের অনিয়শ্চতার মেঘ। বিশ্বে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ করার কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তার পরেই হু হু করে বাড়়ছে অশোধিত তেলের দাম। অথচ গত শুক্রবার ইসলামাবাদে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শান্তিবৈঠক শুরু হওয়ার পর অশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছিল।
সোমবার আমেরিকার অশোধিত তেলের ব্যারেল পিছু দাম ৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০৪.২৪ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৯,৭৩৯.২৩ টাকা)। অশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুডের ব্যারেল প্রতি দাম ৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০২.২৯ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৯,৫৫৫.০৪ টাকা)। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এক ব্যারেল অশোধিত তেলের দাম ৭০ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৬৫৪০ টাকা)-এর আশপাশে ছিল। এক সময় তা বেড়ে ১১৯ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ১১,১৩১.৫৭ টাকা) পর্যন্তও হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত খানিক প্রশমিত হওয়ায় তেলের বাজার খানিক চাঙ্গা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছিল। হরমুজ় পেরিয়ে তেল নিয়ে যাওয়া ট্যাঙ্কার বা জাহাজের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছিল। কিন্তু শান্তিবৈঠক ভেস্তে যাওয়া এবং ট্রাম্পের হরমুজ় ‘অবরোধের’ ঘোষণায় আবার জ্বালানি সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের নির্দেশের পর আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড সমাজমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, হরমুজ়ে অবরোধ নিরপেক্ষ ভাবে সকল দেশের উপরেই প্রয়োগ করা হবে। যে সমস্ত জাহাজ ইরানের কোনও না কোনও বন্দরে প্রবেশ করার চেষ্টা করবে বা সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করবে, সেগুলিকেই আটকানো হবে। আরব উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের ইরানি বন্দরগুলির ক্ষেত্রেও এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে। তবে ইরানের বন্দরের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ না-রেখে যে জাহাজগুলি হরমুজ় দিয়ে যাতায়াত করবে, তাদের বাধা দেবে না মার্কিন সেনা। তাদের জলপথে যাতায়াতের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হবে না।
আংশিক অবরোধের কথা বলা হলেও তেল পরিবহণকারী সংস্থাগুলির আশঙ্কা কাটছে না। সংস্থাগুলির বক্তব্য, হরমুজ় আংশিক ভাবে অবরুদ্ধ হলেও জাহাজগুলি তুলনায় অনেক বেশি সময় নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছোবে। এর ফলে যেমন পরিবহণ খরচ বাড়বে, তেমন নিরাপত্তাগত ঝুঁকিও রয়েছে। কারণ ভূকৌশলগত কারণেই এই সংকীর্ণ প্রণালীর উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আলগা করতে চাইবে না ইরান। তারাও মার্কিন অবরোধের বিরুদ্ধে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ করলে পরিস্থিতি বেগতিক হবে।
সংবাদসংস্থা এপি-র প্রতিবেদন অনুসারে, আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হওয়ার পর হরমুজ় ধরে ৪০টি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কার গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ধীরে ধীরে হরমুজ় প্রণালীকে যুদ্ধ পূর্ববর্তী স্থিতাবস্থা ফিরছিল। কিন্তু ট্রাম্প এই প্রণালী অবরুদ্ধ করার কৌশল নিয়ে আদতে ইরানের তেল রফতানির রাস্তা বন্ধ করতে চাইছেন। ইরান প্রতি দিন গোটা বিশ্বে ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল রফতানি করে। এই তেলের সিংহভাগ হরমুজ় পেরিয়েই বিভিন্ন দেশে পৌঁছোয়। এই বিপুল পরিমাণ তেল রফতানি বন্ধ হয়ে গেলে, স্বাভাবিক ভাবেই বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহ মার খাবে। ফলত চড়চড় করে বাড়বে অশোধিত তেলের দাম। সে ক্ষেত্রে ফের ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
১৩:৩১
১৪ দফা শর্তে আপাতত শান্তি পশ্চিম এশিয়ায়, জেনেভাতে ফের চুক্তি স্বাক্ষরিত না হলেও বৈঠকে বসছে আমেরিকা-ইরান -
০৯:২০
দ্বন্দ্ব থামিয়ে সমঝোতার পথে আমেরিকা-ইরান! মধ্যস্থতাকারী হিসাবে রইল পাকিস্তানের নাম, কোন কোন শর্তে সন্ধি হল? -
১৫:২৩
আলো নিবিয়ে, ট্র্যাকার বন্ধ করে হরমুজ় অতিক্রম! ইরানি কায়দাতেই তেহরানের কোটি কোটি ব্যারেল তেল লুট করেছে আমেরিকা? -
লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজ়রায়েল, মৃত অন্তত চার! ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিই কি সার? শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
-
শুরুতেই ভিন্ন সুর ইজ়রায়েলের, পরমাণু প্রকল্প, হরমুজ় ঘিরেও ধোঁয়াশা! স্বস্তির চেয়ে চ্যালেঞ্জই বেশি ট্রাম্প-ইরান শান্তিচুক্তিতে