স্ত্রী শৌচালয়ে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে অবিবাহিতদের জন্য আয়োজিত স্বয়ম্বর অনুষ্ঠানে ঢুকে পড়লেন ৫১ বছর বয়সি প্রৌ়ঢ়। নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দিলেন। তার পর যা ঘটল, তা অনলাইনে ব্যাপক ক্ষোভ এবং বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শুরু হয়েছে হাসাহাসিও।
ঘটনাটি চিনের আনহুই প্রদেশের বেংবুতে অনুষ্ঠিত ‘আন্টি ওয়াং’স ম্যাচমেকিং’ নামক একটি অনুষ্ঠানে ঘটেছে। ওই অনুষ্ঠানে আলাপচারিতার মাধ্যমে অবিবাহিত যুবক-যুবতীরা নিজেদের পছন্দের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেন। চিনে অনুষ্ঠানটির যথেষ্ট জনপ্রিয়তা রয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের বলা হয়, মঞ্চে এসে তাঁদের আদর্শ সঙ্গীর বর্ণনা করতে। দর্শকদের মধ্যে থেকে যদি তাঁর প্রতি কেউ আগ্রহ প্রকাশ করেন, তা হলে তিনি এগিয়ে আসতে পারেন কথাবার্তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
আরও পড়ুন:
সেই অনুষ্ঠানেই হঠাৎ হাজির হন ৫১ বছর বয়সি এক প্রৌঢ়। নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দেন তিনি। দাবি করেন, ২০১২ সালে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। এক ছেলে এবং এক মেয়ে থাকলেও তিনি একাই থাকেন। আরও জানান, তিনি এক জন নির্দিষ্ট নারীকে মাথায় রেখেই এই অনুষ্ঠানে এসেছেন। দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি একজন সাধারণ চাকুরিজীবী মানুষ। আমি সাংহাইয়ে থাকি। আমি জীবনে সাফল্য পেয়েছি।” প্রৌঢ়েই ওই বক্তব্যের কিছু ক্ষণ পরেই দর্শকদের মধ্যে থেকে দু’জন মহিলা উঠে আসেন এবং তাঁর প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রৌঢ়ের সঙ্গে মঞ্চেও যোগ দেন তাঁরা। প্রৌঢ় যেন হাতে ‘চাঁদ’ পান। খোলাখুলি ভাবে জানান, একসঙ্গে দু’জন নারীর সঙ্গেই কথাবার্তা এগিয়ে নিয়ে যেতে ইচ্ছুক তিনি।
আরও পড়ুন:
এই পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠানের সঞ্চালিকা ঝাও মেই ওরফে ‘আন্টি ওয়াং’ রসিকতা করেন। তিন জনের মধ্যে ‘প্রেমের ত্রিভুজ’ গড়ে উঠছে বলে মজা করেন তিনি। এর পরেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দর্শকদের মধ্য থেকে তৃতীয় এক মহিলা বেরিয়ে এসে নিজেকে ওই প্রৌঢ়ের স্ত্রী বলে দাবি করেন। যদিও সেই মহিলার দাবি অস্বীকার করে প্রৌঢ় জোর দিয়ে বলেন, “আমি ওকে চাই না। আমি মোটেও ওকে বিয়ে করিনি।” তবে পরে জানা যায়, ওই প্রৌঢ় সত্যিই বিবাহিত এবং তিনি অনুষ্ঠানে এসে মিথ্যা কথা বলেছেন।
অনুষ্ঠানের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে পুরো বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন সঞ্চালিকা। জনসমক্ষে কড়া ভাষায় প্রৌঢ়ের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আমি বলেছি, শুধু অবিবাহিতেরাই মঞ্চে আসতে পারবেন। আপনার স্ত্রী শৌচালয়ে গিয়েছিলেন। আর তার মধ্যেই আপনি এখানে চলে এসেছেন! আপনার জীবনে কিসের সমস্যা?”
আরও পড়ুন:
চিনা সংবাদমাধ্যম ‘গুইঝো রেডিয়ো অ্যান্ড টেলিভিশন’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রৌঢ়ের স্ত্রী ফিরে আসার পরেই পরিস্থিতি খারাপ হয়। হাতাহাতি হয় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। সে সময় স্বামীর মুখ নাকি আঁচড়ে দেন মহিলা। প্রৌঢ়ের স্ত্রী পুলিশে ফোন করে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানা গিয়েছে।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি চিনের সমাজমাধ্যমগুলিতে তীব্র বিতর্ক এবং সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী এই নাটকীয় ঘটনায় অবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে মজা এবং উপহাস করতেও ছা়ড়েননি নেটাগরিকদের একাংশ।