হরমুজ়ের পর এ বার ওমান উপকূলে ফের মার্কিন বাহিনীর হামলার মুখে পড়ল আরও একটি বাণিজ্যিক জাহাজ। সেটি ওমানের সিনাস বন্দরের কাছে ছিল। সেই সময় হামলার মুখে পড়ে জাহাজটি। ওমানে ভারতীয় দূতাবাস থেকে এক্স হ্যান্ডলে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার একটি জাহাজে ‘হামলা’ হয়েছে। তবে গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
ওমানের সাংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটিতে কয়েক জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। হামলার জেরে জাহাজ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা স্পষ্ট হয়নি। তবে প্রাথমিক ভাবে জানানো হয়েছে যে, নাবিকেরা সকলেই সুরক্ষিত রয়েছেন। গিনি-বিসৌয়ের পতাকাবাহী জাহাজ ‘জলবীর’-এ এই হামলা হয়েছে বলে ওমানের সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি। এই নিয়ে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ মার্কিন বাহিনীর হামলার মুখে পড়ল।
গত মঙ্গলবার (৯ জুন) মার্কিন বাহিনীর হামলার মুখে পড়ে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ। সেই হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। পালাউয়ের পতাকাবাহী এমটি সেটেবেলো নামে জাহাজটিকে নিশানা করা হয় বলে অভিযোগ। হামলায় প্রথমে দুই ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু জাহাজের চিফ ইঞ্জিনিয়ার নিখোঁজ ছিলেন। তবে পরে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, সেই ইঞ্জিনিয়ারেরও মৃত্যু হয়েছে। জাহাজটিতে মোট ২৪ জন নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েক জন ভারতীয়ও রয়েছেন। হামলার পর পরই ২১ জন নাবিককে উদ্ধার করা হয়। তিন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ ছিলেন।
বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতি জারি করে এই হামলার কড়া নিন্দা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘‘ওমান উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় তিন ভারতীয়ের মৃত্যু অত্যন্ত নিন্দনীয় একটি ঘটনা। এই হামলার নিন্দা করছি আমরা। ওমানে আমাদের দূতাবাস সে দেশের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালাচ্ছে।’’ মঙ্গলবারেও ওমান উপকূলে দ্বীপরাষ্ট্র পালাউয়ের‘ম্যারিভেক্স’ নামে একটি জাহাজে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। প্রসঙ্গত, আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিল পালাউ। সেই পালাউয়ের জাহাজ ‘ম্যারিভেক্স’ হরমুজ় প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ এড়ানোর চেষ্টা করেছিল। আর সেই সময়ই মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে ওই জাহাজের উপর।