আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাস মোকাবিলায় উদ্দেশ্যে যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করল আমেরিকা এবং পাকিস্তান। পাক পঞ্জাব প্রদেশের পাশাপাশি আফগানিস্তান সীমান্ত লাগোয়া খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশের নওশেরায় শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসবাদীদের মোকাবিলার কৌশল রপ্ত করার অনুশীলন।
পাক পঞ্জাবের খারিয়ান জেলার পাব্বি শহরের জাতীয় সন্ত্রাস মোকাবিলা কেন্দ্রে (এনসিটিসি) যৌথ মহড়ার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরে পাক সেনার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতর (আইএসপিআর) জানিয়েছে আগামী দু’সপ্তাহ ধরে খাইবার-পাখতুনখোয়ায় চলবে ‘ইনস্পায়ার্ড গ্যাম্বিট ২০২৬’ নামের ওই সামরিক মহড়া।
আরও পড়ুন:
আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, পেশাদার সামরিক মান উন্নত করা এবং সন্ত্রাসবাদী উপদ্রুত প্রতিকূল পরিবেশে উভয় বাহিনীর সক্ষমতা জোরদার করার উদ্দেশ্যেই এই মহড়া। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে পঞ্জাবের পাশাপাশি বিদ্রোহী গোষ্ঠী তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ‘মূল ডেরা’ খাইবার-পাখতুনখোয়ায় পাহাড়েও হবে সন্ত্রাস দমনের যৌথ মহড়া।
আরও পড়ুন:
বারাক ওবামার জমানায় সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার অভিযোগে প্রকাশ্যে ইসলামাবাদকে দোষারোপ করেছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু গত কয়েক মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পাক সেনা সর্বাধিনায়ক ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ঘনিষ্ঠতা দেখা গিয়েছে একাধিক বার। গত এপ্রিল মাসে জম্মু-কাশ্মীরে পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ড এবং তার পরে প্রত্যাঘাত হিসাবে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে নয়াদিল্লি এবং ইসলামাবাদের মধ্যে সামরিক সংঘাত হয়েছিল। চার দিনের সংঘর্ষের পর অবশ্য দু’পক্ষ সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছিল।
১০ মে সংঘর্ষবিরতির কথা প্রথম ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। তার পর থেকে একাধিক বার তিনি দাবি করেছেন, তাঁর হস্তক্ষেপই দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরমাণু অস্ত্রধর রাষ্ট্রের সংঘর্ষবিরতি সম্ভব হয়েছে। কিন্তু ভারত কখনওই সে কথা স্বীকার করেনি। অন্য দিকে, সংঘর্ষবিরতিতে ট্রাম্পের ‘ভূমিকাকে’ প্রকাশ্যে স্বীকৃতি দিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল মুনির।