পাকিস্তানের পেশোয়ারে মসজিদের ভিতর ‘আত্মঘাতী’ বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করল তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)। সোমবার দুপুরে এই বিস্ফোরণে তাঁদের হাত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাক তালিবান জঙ্গি গোষ্ঠীর কম্যান্ডার সরবকফ মহমন্দ। এমনই জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা এএফপি। সোমবারই ঘটনাস্থলে যাবেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
সোমবার সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা অন্তত ৪৬। জখম হয়েছেন কমপক্ষে ১০০ জন। পেশোয়ারের পুলিশ লাইন এলাকায় পাকিস্তান পুলিশের সদর দফতরের ভিতরে ওই মসজিদে প্রার্থনা চলাকলীন বিস্ফোরণ হয়। তার জেরে মসজিদের একাংশ ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকেই চাপা পড়ে রয়েছেন বলে আশঙ্কা প্রশাসনের। খবর পেয়ে উদ্ধারকাজে নেমেছে পুলিশ-প্রশাসন।
পেশোয়ারের পুলিশ প্রধান মহম্মদ ইজ়াজ় খান সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে জানিয়েছেন, সোমবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে নমাজ শুরু হওয়ার পর মসজিদে বিস্ফোরণ হয়। পাক সংবাদমাধ্যম ‘জিয়ো নিউজ়’-এর দাবি, মসজিদের নমাজের জন্য জড়ো হওয়া মানুষজনের মধ্যে সামনের সারিতে ছিলেন ‘আত্মঘাতী জঙ্গি’।
আরও পড়ুন:
বিস্ফোরণে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন শাহিদ আলি নামে ৪৭ বছরের এক পুলিশকর্মী। সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে ওই প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের কয়েক মুহূর্ত আগেই মসজিদের নমাজ শুরু করেছিলেন ইমাম। শাহিদের কথায়, ‘‘বিস্ফোরণের পর গোটা আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। প্রাণে বাঁচতে ছুটতে শুরু করেছিলাম।’’
এই ঘটনার নিন্দা করে নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শরিফ। আহতদের যথাযথ চিকিৎসার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন শরিফ। সোমবার সন্ধ্যায় পেশোয়ারের দিকে তিনি রওনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পাক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী রানা সানাউল্লা। নিজের শোকবার্তায় এই ঘটনার নিন্দা করেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও। সরব হয়েছেন শোয়েব মালিক, মহম্মদ হাফিজ়ের মতো পাক ক্রিকেটার।