২০০৬ সালের পরে এই প্রথম ভোট দিলেন প্যালেস্টাইনিরা। আজ ছিল পুরসভা ও গ্রাম-পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাচন। চার বছর অন্তর এই ভোট হওয়ার কথা। যদিও গত দু’দশকে ইজ়রায়েল-অধিকৃত যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশে নির্বাচন পালন করা সম্ভব হয়নি। গোটা পশ্চিম ভূখণ্ডেই আজ ভোট হয়েছে। গাজ়ায় শুধুমাত্র দের-আল-বালা-তে নির্বাচন প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক বা পশ্চিম ভূখণ্ডের বিভিন্ন এলাকায়, যেমন রামাল্লা, এল-বিরে, নাবলুসে প্রার্থীদের ছবি দিয়ে বড় বড় বিলবোর্ড পড়েছিল। গ্রামের রাস্তাঘাট পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছিল। ইজ়রায়েল-অধিকৃত এই দেশে গণতন্ত্র নামমাত্রই বেঁচে। ২০ বছর পরে যে ভোট করা সম্ভব হচ্ছে, সে নিয়ে বরং জনমানসে কিছুটা সংবেদনশীলতা কাজ করছে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার বদলে এই দেশ কতটা চাপের মধ্যে একটা নতুন সরকার তৈরির চেষ্টা করছে, তাই প্রতিফলিত হয়েছে চার দিকে। সমাজবিদদের একাংশের মতে, ইজ়রায়েলিদের তৈরি করা পরিস্থিতি, যাতে প্যালেস্টাইনিরা ক্রমাগত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন একে অপরের থেকে। গৃহহীন অবস্থা, সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিরতা, খাদ্য ও পানীয়ের চরম অভাব— এ সবের মধ্যে নির্বাচন করানো টিকে থাকার এক মরিয়া চেষ্টা।
গাজ়া এত দিন মূলত সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ইজ়রায়েল-হামাস যুদ্ধের পরে প্যালেস্টাইনি প্রশাসন গাজ়ার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এ বারে গাজ়ায় শুধু দের-আল-বালা-তে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনেকটাই প্রতীকী ভাবে গাজ়াকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হলেও হামাসের হাত থেকে প্যালেস্টাইনি কর্তৃপক্ষের কাছে শাসনভার ফিরে আসায় খুশি ইউরোপ ও আরব দেশগুলি।
এই ভোটে বহু মানুষ প্রথম বার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করলেন। ৫২ বছর বয়সি মামদু আল-ভাইসির কথায়, ‘‘এক জন প্যালেস্টাইনি এবং গাজ়ার পুত্র হিসেবে আমি গর্বিত যুদ্ধের পরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরে আসায়।’’ এক প্রার্থী মুনিফ ত্রেইশ বলেন, ‘‘আমাদের আশা, এর পরে লেজিসলেটিভ ও প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন করা সম্ভব হবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)