Advertisement
১৪ জুলাই ২০২৪
Myanmar Violence

পশ্চিম রাখাইনে জুন্টাসেনার সদর দখল মায়ানমারের বিদ্রোহীদের, মিজ়োরামে ঢুকলেন আরও শরণার্থী

এই পরিস্থিতিতে সোমবার সকাল থেকে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতেও আশ্রয় নিতে ঢুকে পড়ছেন মায়ানমারের শরণার্থীরা। সোমবার মিজ়োরামে অন্তত ৪৭ জন শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন বলে সে রাজ্যের লায়ংটেলাই জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হচ্ছে।

— প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

আনন্দবাজার অনলাইন ডেস্ক
কলকাতা শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০২৪ ২২:২৪
Share: Save:

প্রায় ৪৮ ঘণ্টার তুমুল লড়াইয়ের পর মায়ানমারের জুন্টা সরকারের সেনার পশ্চিম রাখাইনের প্রধান ঘাঁটি দখল করল সে দেশের বিদ্রোহীরা। বাংলাদেশের কক্সবাজার সীমান্তবর্তী ওই শিবির থেকে আরাকান আর্মির নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী জোট কয়েকশো সেনাকে আটক করেছে বলে সে দেশের গণতন্ত্রপন্থী শক্তির স্বঘোষিত সরকার ‘ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট’ (এনইউজি)-র একটি সূত্রের দাবি।

এই পরিস্থিতিতে সোমবার সকাল থেকে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতেও আশ্রয় নিতে ঢুকে পড়ছেন মায়ানমারের শরণার্থীরা। সোমবার মিজ়োরামে অন্তত ৪৭ জন শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন বলে সে রাজ্যের লায়ংটেলাই জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হচ্ছে। রাখাইন প্রদেশই মায়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আবাসভূমি।

গত কয়েক মাসের লড়াইয়ে রাখাইনের ৯০ শতাংশের বেশি এলাকা বিদ্রোহী তিন গোষ্ঠীর জোট ব্রাদারহুড অ্যালায়্যান্স, গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী আউং সান সু চির সমর্থক স্বঘোষিত সরকার ‘ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট’-এর সশস্ত্র বাহিনী ‘পিপলস ডিফেন্স ফোর্স’ (পিডিএফ) এবং রাখাইন প্রদেশে সক্রিয় সশস্ত্র জনজাতি বাহিনী আরাকান আর্মি দখল করেছে বলে প্রকাশিত কয়েকটি খবরে দাবি।

প্রসঙ্গত, মায়ানমারের তিন বিদ্রোহী গোষ্ঠী— ‘তাঙ ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি’ (টিএনএলএ), ‘আরাকান আর্মি’ (এএ) এবং ‘মায়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি’ (এমএনডিএএ)-র জোট ‘ব্রাদারহুড অ্যালায়্যান্স’ নভেম্বর থেকে সে দেশের সামরিক জুন্টা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছিল। ওই অভিযানের পোশাকি নাম ‘অপারেশন ১০২৭’।

পরবর্তী সময়ে জুন্টা-বিরোধী যুদ্ধে শামিল হয়, আরাকান আর্মি, ‘চিন ন্যাশনাল আর্মি’ (সিএনএ) এবং ‘চায়নাল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্স’ (সিডিএফ), ‘কাচিন লিবারেশন ডিফেন্স ফোর্স’ (কেএলডিএফ)-এর মতো বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলিও। জুন্টা বিরোধী রাজনৈতিক দল ‘শান স্টেট প্রোগ্রেস পার্টি’ বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। বিদ্রোহীদের হামলার জেরে ইতিমধ্যেই সে দেশের অর্ধেকের বেশি এলাকা সরকারি সেনার হাতছাড়া হয়েছে।

গত মাসে তাইল্যান্ড সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত জুন্টা সেনার ‘ব্যাটেলিয়ন ২৭৫’-এর সদর দফতরেরও দখল নিয়েছিল বিদ্রোহী বাহিনী। এই পরিস্থিতিতে সে দেশের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দল ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি’র সমর্থক পিডিএফের ‘সক্রিয়তা’ জুন্টা সরকারের সমস্যা আরও বাড়িয়েছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মায়ানমারের গণতন্ত্রকামী নেত্রী সু চির দল ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি’র নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাত করেই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিল মায়ানমার সেনা।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

অন্য বিষয়গুলি:

Myanmar Myanmar Army Mizoram
সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:
Advertisement

Share this article

CLOSE