ইরানের রাজধানী তেহরানে নিরাপদ বাঙ্কারে চলে গিয়েছেন সে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। সরকারের ঘনিষ্ঠ দু’টি সূত্রকে উদ্ধৃত করে এ কথা জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমে ইরান ইন্টারন্যাশনাল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পরে প্রশাসনের একাংশের আশঙ্কা, আমেরিকা হামলা করতে পারে। সে কারণেই নিরাপদ স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন খামেনেই।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মাটির নীচে সুড়ঙ্গের সঙ্গে সুড়ঙ্গ জুড়ে নিরাপদ আস্তানা তৈরি করা হয়েছে। যুদ্ধকালীন নিরাপত্তার কারণে। সেখানেই রয়েছেন খামেনেই। ওই সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট থেকেই জানা গিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার তৃতীয় পুত্র মাসুদ খামেনেই এখন বাবার দায়িত্বভার সামলাচ্ছেন। ইরানের প্রশাসনের বাকি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
সম্প্রতি দাভোস থেকে ফিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, আমেরিকার নৌবহর ‘আর্মাডা’ পশ্চিম এশিয়ার দিকে এগোচ্ছে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে বসেই তিনি জানান, ওই অঞ্চলের কাছাকাছি নিজেদের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে রেখেছে আমেরিকা। ‘যদি’ তাঁর মনে হয় ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করবেন, তাই আগেভাগে প্রস্তুতি।
তার পরেই তেহরান পাল্টা দাবি করে, তারাও প্রস্তুত। ইরানের উপর ছোট-বড় যে কোনও হামলা যুদ্ধ হিসাবে দেখা হবে এবং সেই অনুযায়ী জবাব দেওয়া হবে। শুক্রবার সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে এমনটাই জানান ইরানের এক আধিকারিক। তাঁর দাবি, সামান্যতম কোনও হামলাকেও আর সংযমের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে না। তিনি বলেন, ‘‘ এ বার আমরা যে কোনও হামলাকে, তা সে অল্প হোক বেশি হোক, অনিয়ন্ত্রিত হোক বা সার্জিক্যাল হোক, সম্পূর্ণ যুদ্ধ হিসাবেই বিবেচনা করব। তার কঠোরতম জবাবও দেব। ইরানের সার্বভৌমত্ব এবং ভূখণ্ডের অখণ্ডতাকে যদি আমেরিকা লঙ্ঘন করে, আমরা প্রত্যাঘাত করবই।’’
এর আগেও পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হলে আমেরিকা সেনা পাঠিয়েছে। ধারাবাহিক ভাবে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। তবে এ ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের অধিকাংশ পদক্ষেপই ছিল রক্ষণাত্মক। তবে গত বছর ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পের বিরুদ্ধে আমেরিকা সরাসরি হামলা চালিয়েছিল। এ বার ইরান নাগরিকদের একাংশের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হতেই ফের তৎপর হন ট্রাম্প।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মানুষ পথে নামলেও ক্রমে তা দেশের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিদ্রোহের আকার নেয়। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনেইকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিক্ষোভ দেখান হাজারো মানুষ। প্রতিবাদীদের দমন করতে গুলি চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। আমেরিকা এই গণবিক্ষোভকে সমর্থন করেছিল। ট্রাম্প নৌবাহিনী পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। পাল্টা হুঁশিয়ারি দেয় ইরানও। মার্কিন-ইরান সংঘাতে ফের পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।