Advertisement
E-Paper

‘কাফালা’ রদ, রেহাই পাবেন অন্তত ২৩ লাখ ভারতীয়! সৌদিতে কী ভাবে চলত এই ‘আধুনিক ক্রীতদাস’ ব্যবস্থা?

এই ব্যবস্থার কারণে বিদেশি শ্রমিকদের স্বাধীনতাহীনতা, তাঁদের উপর নিপীড়ন এবং অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছিল গত প্রায় ৭০ বছর ধরে। এর জন্য একে ‘আধুনিক ক্রীতদাসপ্রথা’ বলেই বর্ণনা করে এসেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ১২:১৯
সৌদি আরবে অবশেষে রদ হল ‘কাফালা’ ব্যবস্থা।

সৌদি আরবে অবশেষে রদ হল ‘কাফালা’ ব্যবস্থা। ছবি: সংগৃহীত।

সৌদি আরবে আনুষ্ঠানিক ভাবে রদ হল ‘কাফালা’ ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় চাকরি দেওয়ার নামে বিদেশি শ্রমিকদের নানা নিয়মকানুনে বেঁধে ফেলা হত। শুধু তা-ই নয়, নিয়মকানুনে একবার বাঁধা পড়লে সহজে বেরোনোরও উপায় থাকত না। এই ব্যবস্থার কারণে বিদেশি শ্রমিকদের স্বাধীনতাহীনতা, তাঁদের উপর নিপীড়ন এবং অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছিল গত প্রায় ৭০ বছর ধরে। এর জন্য একে ‘আধুনিক ক্রীতদাসপ্রথা’ বলেই বর্ণনা করে এসেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। এই ব্যবস্থা অবশেষে রদ হওয়ায় অন্তত ২৩ লক্ষ ভারতীয় উপকৃত হবেন বলেই অনুমান।

কী এই ‘কাফালা’ ব্যবস্থা

‘কাফালা’ হল আরবি শব্দ, যার অর্থ পৃষ্ঠপোষকতা (স্পনসরশিপ)। ১৯৫০-এর দশকে পশ্চিম এশিয়া যখন তেলের অর্থে ফুলেফেঁপে উঠছে, সে সময়ে বিদেশি শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণ করতে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। এই ব্যবস্থায় বিদেশ থেকে আসা শ্রমিককে কোনও এক স্থানীয় পৃষ্ঠপোষকের সঙ্গে বাঁধা পড়ে থাকতে হত। এই স্থানীয় পৃষ্ঠপোষককে বলা হত ‘কাফিল’। তিনিই ঠিক করে দিতেন, তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকা পরিযায়ী শ্রমিক কোথায় থাকবেন এবং কোথায় কাজ করবেন। কালে কালে এই কাফালা ব্যবস্থাটি একটি অপরাধচক্র হয়ে ওঠে। গরিব ভিন্‌দেশি শ্রমিকদের উপরে যথেচ্ছ অত্যাচার-শোষণের অভিযোগ ওঠে। অনেক সময়ই শোনা যেত, শ্রমিকের পাসপোর্ট আটকে রেখে দিয়েছেন নিয়োগকারী ব্যক্তি। বেতনও দিচ্ছেন না। ওই শ্রমিক চাইলেও চাকরি বদল করতে পারতেন না। পৃষ্ঠপোষকের অনুমতি ছাড়া প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে পারতেন না। আবার পাসপোর্ট না থাকায় নিজের দেশে ফিরেও যেতে পারতেন না।

‘আধুনিক ক্রীতদাসপ্রথা’!

দীর্ঘ দিন ধরেই নির্যাতনের অভিযোগ উঠতে থাকায় কাফালা ব্যবস্থা নিয়ে সরব হয় বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। তাদের বক্তব্য, একপ্রকার ‘দাসবৃত্তি’ করানো হয় চাকরি দেওয়ার নামে। নার্সের চাকরির খোঁজে গিয়ে অপহৃত, এমনকি পাচারের শিকার হয়েছিলেন কর্নাটকের জেসিন্থা মেনডনকা। অভিযোগ, ৪.৩ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন জেসিন্থার কাফিল। শেষমেশ কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ৪৬ বছরের প্রৌঢ়াকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ২০১৭ সালে সৌদিতে গিয়ে একই ভাবে যৌন হেনস্থার শিকার হন গুজরাতের এক মহিলাও। তবে শুধু ভারতীয়েরা নন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ শ্রমিক সৌদিতে যান কর্মসূত্রে। এই ব্যবস্থা রদ হওয়ায় রেহাই পাবেন তাঁরাও।

Kafala
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy