ইরানে এ বার গৃহযুদ্ধ বাধিয়ে দেওয়ার ছক কষছে আমেরিকা! সে দেশের বিদ্রোহী কুর্দ বাহিনীকে আমেরিকা অস্ত্র দিয়েও নাকি সহায়তা করতে পারে! বেশ কয়েকটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে এমনটাই জানিয়েছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স।
ওই সূত্র মোতাবেক, ইরানের পশ্চিম দিকে কুর্দ বাহিনীকে দিয়ে হামলা চালানোর ছক কষছে পেন্টাগন। তবে কবে এবং কী ভাবে হামলা চালানো হবে, তা এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে ওই সূত্রের দাবি। রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সামরিক বাহিনীর উপর হামলার আগে আমেরিকার সহায়তা চেয়েছে কুর্দদের সশস্ত্র বাহিনী। দু’টি সূত্রের দাবি, মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ তাদের অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করবে কি না, তা নিয়েও আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করেছে কুর্দ বাহিনী।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে কুর্দ গোষ্ঠীকে সিআইএ মদত দিতে পারে বলে দাবি করা হয়েছিল। মার্কিন ওয়েবসাইট ‘অ্যাক্সিওস’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কুর্দদের দুই প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রসঙ্গত, কুর্দরা পশ্চিম এশিয়ার একমাত্র বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী, যাদের নিজস্ব কোনও দেশ নেই। তুরস্ক, সিরিয়া, ইরাক এবং ইরান— মূলত এই চারটি দেশে ছড়িয়েছিটিয়ে রয়েছেন কুর্দরা। ইরাকের আধা স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান থেকেই নিজেদের কাজকর্ম পরিচালনা করে থাকে কুর্দদের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি। ইরান সীমান্তবর্তী ওই এলাকা থেকেই কাজকর্ম চালায় ইরানের কুর্দ গোষ্ঠীগুলিও।
ইরানের মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশই পারসিক। তবে সে দেশে প্রায় ৮০ লক্ষ কুর্দও রয়েছেন। তুলনায় অল্প সংখ্যায় রয়েছেন আরবি, আজ়ার এবং বালোচরাও। আমেরিকা মনে করছে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রে এই গোষ্ঠীগুলি অবহেলিত থেকেছে। তাই তাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সেই ক্ষোভকেই কাজে লাগানো যাবে বলে মনে করছে আমেরিকা।
আমেরিকার সঙ্গে কুর্দদের সশস্ত্র গোষ্ঠীর এই ‘মিত্রতার’ বিষয়টি নিয়ে তেহরানও খুব সম্ভবত অবহিত রয়েছে। মঙ্গলবার ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের তরফে জানানো হয়, তারা ইরাকের কুর্দিস্তানে ড্রোন হানা চালিয়েছে।